শিরোপা নেই ২৪ বছর ধরে, এই সময় ফাইনালেও যেতে পারেনি ব্রাজিল দল। বর্তমানে র্যাংকিংএ দলের অবস্থান পাচ নাম্বারে।
নিয়মিত জয় থেকেও দূরে ব্রাজিল দল। এতকিছুর পরে আপনার মনে হতে পারে, বিশ্বকাপ কি আদৌ জয় করতে পারবে ব্রাজিল।
তবে ব্রাজিল দল যেন আহত বাঘের মতই ভয়ঙ্কর। এদের থাবায় যেকোন দিন হতে পারে যে কারো পতন। এখন ৩ দিকে অন্য অনেক দলের থেকে এগিয়ে ব্রাজিল, যা তাদের এনে দিতে পারে শিরোপা।
অগাধ প্রতিভার ভাণ্ডার ও তারকাদের অন্তহীন সরবরাহ, অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে রাখে ব্রাজিলকে।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অসম্ভব গভীর প্রতিভার ভান্ডার। দলের অবস্থা যাই হোক, এদের প্রতিভা বের হওয়া থেমে থাকেনা।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের সংখ্যা অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নেইমারের দীর্ঘমেয়াদি অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগো, মার্টিনেল্লি, এন্তোনি, এন্ড্রিক, ব্রুনো গিমারায়েস, ক্যাসেমিরো কিংবা মারকুইনহোস সবাই নিজেদের ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ফলে এক-দুই তারকা চোটে থাকলেও ব্রাজিলের আক্রমণ, মাঝমাঠ বা রক্ষণ কোথাও গভীরতার অভাব দেখা দেয় না। কখনই কোন কোচের খেলোয়াড় নিয়ে ভাবনায় থাকতে হয়নি, বরং কাজে লাগাতে পারলে সব পজিশনেই ব্রাজিল পাবে ভালো মানের খেলোয়াড়। এই প্রতিভার ধারাবাহিকতা বড় টুর্নামেন্টে যে কোনো দলকে ভয় ধরানোর জন্য যথেষ্ট।
শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও বহুমুখী খেলোয়াড় ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখবে বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে। কথায় আছে, আক্রমণ আপনাকে ম্যাচ জেতালেও রক্ষণ আপনাকে শিরোপা জেতাহ। ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সবসময়ই শক্তিশালী। মারকুইনহোস, মিলিতাও, গাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস এর মত সেন্টার ব্যাক আছেন দলে, বিকল্প হিসেবেও আছেন ব্রেমার, বেরালদো, মুরিলোর মত নাম।এদের অভিজ্ঞতা ও স্কিল দলের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে। এর বাইরে রাইট ব্যাকে ওয়েসলি, ভ্যান্ডারসনরাও দারুণ মুখ। পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের নানা পজিশনে খেলার দক্ষতা আছে। যে কারণে বিশ্বকাপে যত শক্তিশালী এট্যাক থাকুক, ব্রাজিল থাকবে এগিয়ে।
ব্রাজিলের নিজেদের ছন্দ ও কোচিং ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে ফেভারিট রাখবে। এটা এমন এক দেশ যেখানে ফুটবলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়না কাউকে। জাতীয় দলে যারাই খেলেন, তারা নিজেদের দিনে একাই যে কারো বিপক্ষে ব্যাবধান গড়তে পারেন।
এর সাথে আছেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো, যিনি স্বাধীনতা দিয়ে খেলোয়াড়দের থেকে সেরাটা আদায় করতে পারেন। এমন এক কোচের অধীনে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা যদি চেনা সাম্বার ছন্দ দেখাতে পারে, তবে চিরচেনা ব্রাজিলের কাছে হার মানবে যেকোন দল।
সব মিলিয়ে আগামী বিশ্বকাপ জয়ে এখনও ৩ কারণে ফেভারিট ব্রাজিল দল। এবার দেখা যাক, মাঠে এই ফেভারিটের তকমা কাজে লাগাতে পারে কিনা তারা।




