তার ট্রান্সফার নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। একের পর এক মৌসুম তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ নিয়ে পিএসজির সাথে বিশাল আর্থিক লেনদেন থেকে সরকারি হস্তক্ষেপ পর্যন্ত এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজির ডেরায় থাকেননি, রিয়াল মাদ্রিদেই এসেছেন।
এসে প্রমাণ করে যাচ্ছেন, কেন তাকে নিয়ে এতটা কাড়াকাড়ি ছিল ইতিহাসের সেরা ক্লাবের।
চ্যাম্পিয়নস লীগের এবারের আসরে সেটা যেন আরো একবার মনে করালেন এমবাপ্পে।
অলিয়াম্পোকোসের বিপক্ষে তাদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ জিতলো ১ গোলের ব্যাবধানে। গোলের পর গোলের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ৪-৩ গোলে।
অলিয়াম্পাকোসের হয়ে গোল করেছেন চিকুইনহো, তারেমি, এল কাব্বিরা। তবে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একজনই গোল করেছেন, তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এদিন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে শুরুতে গোল করেন চিকুইনহো। এরপর ২২ মিনিটে গোল করেন এমবাপ্পে। ২২ থেকে ২৯ মিনিট, এই ৮ মিনিটে নিজের হ্যাট্রিক পুরণ করেন এমবাপ্পে। অলিয়াম্পাকোস তার জন্য অফসাইড ট্রাপ সেট করে রাখলেও তাতে কাজের কাজ হয়নি।
নিজের অভিজ্ঞতা, গতি ও স্কিল দিয়ে সেই সব ফাদ এড়াননি এমবাপ্পে, তুলে নেন একের পর এক গোল। প্রথমার্থে তার ৩ গোলের পর দ্বিতীয়ার্থে করেন আরো এক গোল। যে কারণে একাধিকবার গোল শোধ করেও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অলিয়াম্পাকোস।
শুধু এই ম্যাচেই গোল করেছেন এমন নয়, পারফর্মেঞ্চে এমবাপ্পে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ধারাবাহিক।
এই চ্যাম্পিয়নস লীগের মঞ্চে ৫ ম্যাচেই ৯ গোল এসে গেছে এমবাপ্পের। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লীগে ৫ ম্যাচে ৯ গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক লিজেন্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সেবার ১৭ গোল করে আসর শেষ করেন রোনালদো।
যেটা চ্যাম্পিয়নস লীগের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এই আসরেও রিয়াল মাদ্রিদ অনেকদুর যেতে পারলে রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ থাকবে এমবাপ্পের সামনে। এর বাইরে এই মৌসুমে লীগে ১৩ ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল এসিস্ট। এমন দুরন্ত ফর্মের এমবাপ্পে বিশ্বের সেরাদেরই একজন, বলা যায় এই মুহুর্তে সেরাদের সেরা।
জাতীয় দল, ক্লাব সবখানেই পারফর্ম করেন। গোল এসিস্ট করেন, আবার পায়ের জাদু দেখান। এর সাথে বিনয় দিয়েও মন জয় করেন সবার। ২৫ বছর বয়সী এমবাপ্পের অনেকদুর পারি দেওয়া বাকি, তবে অনেকদুর যে পারি দিয়েছেনই এই তারকা, তাতে নেই সন্দেহ। আগামী দিনে মাদ্রিদ দলে কেউ রোনালদোর উত্তরসুরী হলে হবেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাই।




