একটা সময় ছিলেন দেশসেরা গোলরক্ষক। এমনকি সাফের মঞ্চেও ছিলেন সেরাদের কাতারে।
অথচ সেই জিকো অনেকদিন নেই বাংলাদেশ দলে, প্রাথমিক দলেও তাকে ডাকেননি কোচ।
কাবরেরার দোষ অনেকেই দিতে পারেন, তবে ক্লাবেও এই সময় নিয়মিত সুযোগ পেতেন না জিকো। তাই অনেকে ধারণা করেছিলেন জিকো বোধহয় হারিয়েই যাবেন।
তবে সেরারা হারাতে নয়, ফিরে আসতে জানেন। এবার সেই ফিরে আসার গল্পটাই লেখছেন জিকো।
আর সেটাই করছেন এই মৌসুমে। মৌসুমে ৩ ম্যাচে হজম করেছেন ১ গোল, ক্লিনশিট রেখেছেন দুই ম্যাচে।
এই মৌসুমে দলকে নিয়ে জিতেছেন সবগুলো ম্যাচে। এর মাঝে নিজের ঝলক দেখিয়েছেন নানা সময়, আর সেখানেই প্রমাণ করেছেন কেন তিনি দেশসেরা।
সর্বশেষ ম্যাচেও জিকোর সেভ এসেছে আলোচনায়। বাংলার অধিনায়ক জামাল ভুইয়া ফ্রিকিক নেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে।
টপ কর্নারের দিকে যাওয়া সেই ফ্রিকিক গোল হবে এমনটাই মনে হচ্ছিল। তবে দারুণ সেই ফ্রিকিক গোলবঞ্চিত হয় জিকোর কারণে। দারুণ পজিশন নিয়ে লাফিয়ে উঠে সেভ দেন জিকো।
এর আগে রহমতগঞ্জের বিপক্ষেও মাত্র ৬ গজ দূর থেকে দারুণ সেভ জিকোর।
ডানদিক থেকে আসা ক্রসে রহমতগঞ্জের খেলোয়াড় রাজন শট করেন, তবে রাজনকে লক্ষ্য করে দ্রুত বামদিকে আসেন জিকো, দারুণ পজিশনিং নিয়ে কুইক রিফ্লেক্সে ফেরান বল। সেটাও এমনভাবে যাতে রিবান্ডের কোন সম্ভাবনা না থাকে খেলোয়াড়ের।
মাঠে সেভ, ক্লিনশিটের সাথে ডিফেন্সকেও নেতৃত্ব দেন জিকো। ডিফেন্ডার তপু, তাজদের নির্দেশনা দেন।
পজিশন ও খেলোয়াড় অনুযায়ী দিতে থাকেন উপদেশ। আর তাতেই মিলেছে ফল, ৩ ম্যাচে ২ ক্লিনশিট সহ বসুন্ধরার জয় ৩ ম্যাচেই।
আগের কোচের আমলে সুযোগ মেলেনি। নতুন কোচ মারিও গোমেজ এসে রত্ন চিনতে ভুল করেননি।
যে কারণে তিনি এসেই জিকোকে আনেন শুরুর একাদশে। জিকোও সেটার প্রতিদান দেন কোচকে, একের পর এক করেন পারফর্মেঞ্চ।
এই মুহুর্তে লীগে শীর্ষে বসুন্ধরা। ক্লাবে যদি এমন পারফর্মেঞ্চ দিতে থাকেন জিকো, তাকে জাতীয় দলে ডাকতে বাধ্য থাকবেন যেকোন কোচ।
এমনকি জাতীয় দলে গোলরক্ষকদের যে ফর্ম, শুরুর একাদশে আসতেও লাগবেনা সময়। আর সেখানেই জিকো যেন জানাচ্ছেন, ফিরতে আর বেশি দেড়ি নেই তার। জিকো ফিরে এসে আবারো হোক বাংলার দেয়াল, এটাই চাওয়া ভক্তদের।




