টানা ৩২ ম্যাচ গোলশুন্য। এর সাথে যুক্ত ছিল কোচের সাথে তার দ্বন্দ্ব ইস্যু। নিয়মিত একাদশে না থাকা, গোল না পাওয়া, গোল এসিস্ট ক্ষরা সবকিছুই ঘিরে ছিল রদ্রিগোকে ঘিরে।
ফলে তাকে নিয়ে ছিল সমালোচনা। অনেকে তার রিয়াল মাদ্রিদের ক্যারিয়ারের শেষ ভাবছিলেন, অনেকের মতে ছিল বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া উচিত না রদ্রিগোকে৷ তবে এই ব্রাজিলিয়ান সবাইকে জবাব দিলেন মাঠেই, নিজের যোগ্যতা দিয়ে।
সেলেসাও তারকা আগের দিন পারফর্ম করেন ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ হারে ২-১ গোলে, তবে মাদ্রিদের হয়ে একা পারফর্ম করেন রদ্রিগো।
সিটির বিপক্ষে শুরুতে গোল করে দলের সুবাতাস দেখান তিনি। গোল ছাড়াও পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেন তিনি, ৫ চাঞ্চ ক্রিয়েট, ২ বিগ চাঞ্চ ক্রিয়েট, ৩ সফল ড্রিবলিং, ৪ সফল ক্রস করেন। আক্রমণে সেদিন দলকে নেতৃত্ব দেন। তবে অন্যদের ব্যার্থতায় দল জিতেনি।
পরের ম্যাচে সে আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন রদ্রিগো। এবার দলের হয়ে করলেন উইনিং গোল৷ আলাভেসের বিপক্ষেও তখন ম্যাচের ফল ১-১।
ভাবা হচ্ছিল এ ম্যাচেও কি ড্র নিয়ে ফিরছে রিয়াল মাদ্রিদ, আরো এক ম্যাচ থাকবে জয়হীন। আর সেখানেই ত্রাতা হলেন রদ্রিগো। ভিনিসিয়াসের বাড়ানো ট্রিভেলা পাস থেকে দারুণ এক ফিনিশিংএ গোল করেন, দলকে এনে দেন জয়।
৮৩ মিনিট খেলে এদিন ড্রিবলিং, ডুয়েলসে দারুণ দক্ষতা দেখান রদ্রিগো।
সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদে কোচ ও খেলোয়াড়দের দ্বন্ধ মেটানোর খবর শোনা গিয়েছে।
দলে ক্রয় বিক্রয়ের চেয়ে ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ফেরানোই মুল লক্ষ্য করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর সেখানেই আলান্সো ভিনি রদ্রিগোদের সাথে আলাদাভাবে বসেছেন, দলকে একত্র করেছেন।
সেখানেই সাম্প্রতিক সময়ে আলান্সোর একাদশে প্রাধান্য পেয়েছেন রদ্রিগো। কোচ ও ম্যানেজমেন্ট থেকে নিশ্চয়তা পেয়ে রদ্রিগোও নিজেকে মেলে ধরেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে ভালো করেছেন।
তবে ক্লাবে ভালো না করতে পারার জন্য সমালোচনা ছিল বেশ। সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে রদ্রিগো দেখালেন, তিনি কি করতে পারেন। আগামী ৬ মাসে এই ফর্মটাই ধরে রাখার পালা তার। ফর্মে থাকলে এই রদ্রিগোই হতে পারেন আগামী বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ট্রাম্পকার্ড।




