বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ব্রাজিলে এসেছেন কার্লো আনচেলত্তি। তবে সর্বোচ্চ বেতন দিয়েও কার্লোর থেকে যেন সেরাটা পাচ্ছেনা ব্রাজিল দল।
পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে জয় যেন নিয়মিত ধরা দিচ্ছেনা ব্রাজিল দলে। আর সেখানে বিশেষ করা কাঠগড়ায় ব্রাজিলের একাদশ নির্বাচন।
যে একাদশ ও ফরমেশনের কারণে ব্রাজিল হেরে যাচ্ছে অনেক ম্যাচ, এমনটাই মনে করেন অনেকে। আর সেখানেই প্রশ্ন, কেমন একাদশ হলে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের থাকবে সম্ভাবনা। নেইমার সহ কারা থাকবেন একাদশে?
গোলরক্ষক হিসেবে সেখানে পছন্দ হবেন এলিসন বেকার। সর্বশেষ ম্যাচে এডারসনের পারফর্মেঞ্চ আরো একবার গোলবারে মনে করিয়ে দিচ্ছে এলিসন বেকারের গুরুত্ব। লিভারপুলের এই গোলরক্ষকই তাই থাকবেন বিশ্বকাপে দলের প্রথম পছন্দ, খেলবেন বিশ্বকাপে।
ফ্রাঞ্চের বিপক্ষে ডিফেন্সের প্রথমসসারির সবাই ছিলেন মাঠের বাইরে। তবে সব ঠিক থাকলে বিশ্বকাপের আগে ফিরবেন তারা।
সেক্ষেত্রে সেন্টার ব্যাকে খেলবেন মার্কুইনহস ও গ্যাব্রিয়েল মেঘালাস। মেঘালাস এই মুহুর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক, মার্কুইনহসও আছেন সেরাদের কাতারে। অপরদিকে রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ও কার্লোর সাবেক শিষ্য এডার মিলিতাও ডিফেন্সে হতে পারেন দারুণ এক অপশন।
ভ্যান্ডারসন যেহেতু নেই ইঞ্জুরির কারণ, খেলবেননা বিশ্বকাপ। সেখা এ তার বদলে রাইট ব্যাকে হতে পারে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। অপরদিকে ডিফেন্সিভ লেফট ব্যাক হিসেবে সান্দ্রো হতে পারেন দলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দারুণ অপশন।
মাঝমাঠে ক্যাসিমিরো থাকবেন, অনেকটা নিশ্চিত। ক্লাব ও জাতীয় দল, ক্যাসিমিরো পারফর্ম করেন সমানতালে। ডেস্ট্রায়ার ক্যাসিমিরোকে আরো একবার ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখতে চাইবে সেলেসাও ভক্তরা। তার সাথে মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেজ করতে পারেন দারুণ জুটি৷ সেক্ষেত্রে ইঞ্জুরি থেকে ফেরার পর গিমারেজই হতে পারেন সেলেসাওদের ভরসার নাম।
এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে আন্দ্রেস পেরেইরা বা গ্যাব্রিয়েল সারাকে দেওয়া যেতে পারে সুযোগ। বিশেষ করে নকআউটে ভালো দলের বিপক্ষে এ জায়গায় এট্যাকারের বদলে মিডফিল্ডাররাই হতে পারেন দারুণ সমাধান। সেক্ষেত্রে দলের যেমন শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, আবার এট্যাকে যাবে পর্যাপ্ত বলও।
লেফট উইঙ্গার হিসেবে ভিনিসিয়াস থাকবেন একাদশে। ভিনির ফর্ম যেমনই থাকুক, উইঙে ভিনি বরাবরই ভয়ঙ্কর। এর বাইরে ব্রাজিলের হয়ে যে কয়টা ম্যাচই ভিনি ঝলক দেখিয়েছেন, লেফট উইঙে দেখিয়েছেন। আবার মাঝমাঠে ভালো তারকারা থাকলে এমনিতেই ভিনি উঠবেন জ্বলে।
রাইট উইঙে থাকবেন এস্তেভাও। জাতীয় দলে এস্তেভাও নিজেকে প্রমাণ করেছেন, দেখিয়েছেন তিনি কি পারেন।
এর সাথে গোল করার জন্য নাম্বার নাইনে থাকবেন নেইমার। সান্তোস নেইমার এই পজিশনে খেলেছেন,গোলও করেছেন। ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাও নেইমার। এবার এই পজিশনে নেইমারের ফিটনেস বা স্কিলের সর্বোচ্চটাও দিতে হবেনা। অন্যদিকে গোল ক্ষরায় ভুগছে ব্রাজিল দল। সব মিলিয়ে নাম্বার নাইন হতে পারে তার জন্য আদর্শ জায়গা।
স্টার পারফর্মার, ক্লাবে রেগুলার পারফর্মার বা বড় নামের দিকে না গিয়ে যদি সঠিক পজিশনে সঠিক খেলোয়াড় ও ফরমেশনে মনযোগ দেন কার্লো, তবে বিশ্বকাপ পাওয়া অসম্ভব হবেনা ব্রাজিলের। কেননা এখনও সেলেসাওদের আছে সেই ধরণের যোগ্যতা ও দক্ষতা।




