ইঞ্জুরির কারণে দলে নেই মুল একাদশের প্রায় সব খেলোয়াড়ই। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও একাদশে অভিষিক্ত খেলোয়াড়।
এর সাথে সাথে ম্যাচে একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন কার্লো আনচেলত্তি, বদলি হিসেবে নামান ৮ খেলোয়াড়কে। তবে সেখান থেকেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি ব্রাজিল দলের৷ উলটো শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তারা দেয় ৩ গোল।
শুরু থেকেই এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ব্রাজিল দল। শুরুতেই একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা।
তবে তাদের জন্য বাধা হয়ে দাড়ান গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। শুরুতে ওয়ান ভি ওয়ানে রুখে দেন জোয়াও পেদ্রোর দারুণ এক শট। এরপর দারুণ স্পেস পেয়ে শট করেন ম্যাথুইস কুনহা, কিন্ত সেটাও ফিরে এই গোলরক্ষকের হাতে লেগে।
তবে প্রথমার্থের অতিরিক্ত সময়ে আর রক্ষা হয়না ক্রোয়েশিয়ার৷ এবার কাউন্টার এট্যাক থেকে গোল আদায় ব্রাজিল দলের।
৪৫ মিনিটে কর্নার থেকে ক্লিয়ার হওয়া বল পান ম্যাথুইস কুনহা। সেখানে দারুণ এক লং বল বাড়ান ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের উদ্দেশ্যে। লং বল পেয়ে ভিনির স্বভাবসুলভ রান, একইসাথে একাধিক ডিফেন্ডারকেও রাখেন এলেমেলো। সেখান থেকেই স্পেস তৈরি করে বক্সে ক্রস করেন ভিনি। সেই ক্রসটাই কাজে লাগান অভিষিক্ত দানিলো। তার করা ভলি বামদিকে গিয়ে খুজে নেয় জালের ঠিকানা।
প্রথমার্থে এক গোলে লিডের পর দ্বিতীয়ার্থে আটটি বদলি করে ব্রাজিল দল। দলে ফিরেন এন্ড্রিক, ফ্যাবিনহোরা।
আবার অভিষেক হয় রায়ান, কাইকিদের। এত নবাগত খেলোয়াড়ের মাঝে কিছুটা এলেমেলো ছিল ব্রাজিল দল। সেখানেই ভুল করে বসে তারা। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে সেই ভুল কাজে লাগায় ক্রোয়েশিয়া।
ফ্রুকের বাড়ানো বল থেকে মাজের শট, যে শট ক্লিয়ার করতে এসে সামনে যান ব্রাজিলের বেন্তো। তবে ঠিক সময়ে হাজির না হওয়ার মাশুল গুণতে হয়, হজম করেন গোল। আর সেখান থেকে ম্যাচটা অনেকটা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল ব্রাজিলের।
তবে সেই ম্যাচ হাতছাড়া করাননি বদলি নামা এন্ড্রিক। গোল হজমের পর কিক অফ থেকেই এন্ড্রিকের রান। এবার তাকে থামাতে বক্সে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। তাতেই রেফারি বাশি, পেনাল্টির ডাক। ক্লাবে পেনাল্টি স্পেশালিষ্ট ইগর থিয়োগার পেনাল্টি, আর সেখানে ডান পায়ের পার্ফেক্ট পেনাল্টিতে আবারো লিড ব্রাজিল দলের
সেই লিড বাড়ে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে। আবারো বল নিয়ে রান এন্ড্রিকের। এবার সেখান থেকে বল বাড়ান লেফটে থাকা মার্টিনেল্লির দিকে। বল বাড়ে এই আর্সেনাল উইঙ্গারের জোড়ালো শট, বল পায় জালের ঠিকানা। আর তাতেই জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।
যে জয়ে আত্মবিশ্বাস পাবে ব্রাজিল দল, আবারো ব্রাজিলকে ঘিরে ভক্তরাও পাবে আনন্দ। কেননা বিশ্বকাপে তো এই ব্রাজিলকেই দেখতে চায় তারা, এমন খেলাই ব্রাজিলকে এনে দিতে পারে বিশ্বকাপ শিরোপা।




