আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন টুর্নামেন্টের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল।
দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর তিনি স্বীকার করেছেন-বাংলাদেশি এই পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ছিল।
ঘটনার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে, যখন কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল মোস্তাফিজুর রহমানকে।
আইপিএলে তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কথা বিবেচনা করেই এই বড় বিনিয়োগ করেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বিসিসিআই-এর নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় কেকেআর, যা ক্রিকেট বিশ্বে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন, পুরো বিষয়টি তার কাছেও দুঃখজনক। তিনি স্বীকার করেন, এমন সিদ্ধান্ত সবসময় যুক্তিসঙ্গত মনে নাও হতে পারে।
তার ভাষায়, ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। যদিও বাস্তবতায় মাঝে মাঝে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ভিত্তিতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এই ঘটনার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তারা বিষয়টিকে অন্যায় হিসেবে দেখেছিল এবং প্রতিবাদ জানায়। এমনকি নিরাপত্তা ইস্যু সামনে এনে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণাও দেয় বিসিবি। শর্ত ছিল-ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তবেই অংশ নেবে বাংলাদেশ।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি বিসিবির সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা পুরো ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।
অন্যদিকে, মাঠের পারফরম্যান্সে কিন্তু থেমে নেই মোস্তাফিজ। বর্তমানে তিনি পাকিস্তান সুপার লিগ-এ লাহোর কালান্দার্স-এর হয়ে খেলছেন।
ইতোমধ্যে দুটি ম্যাচে অংশ নিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট, আর তার ইকোনমি রেট ৪.৮৭,যা তার ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতারই প্রমাণ।
সবকিছু মিলিয়ে, আইপিএল চেয়ারম্যানের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সত্যিই ভুল ছিল,যার মূল্য দিতে হয়েছে শুধু একজন খেলোয়াড়কেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেও।




