হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলি ও ট্রাভিস হেডের করমর্দন না করার ঘটনা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। মাঠের সেই উত্তেজনা এবার ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। আর এর সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ট্রাভিস হেডের স্ত্রী জেসিকা।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাডভার্টাইজার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেসিকা জানান, ঘুম থেকে উঠেই তিনি দেখেন সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ভয়ংকর আক্রমণ শুরু হয়েছে। শুধু গালিগালাজ নয়, তাকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সমর্থকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, তার পরিবার ও বন্ধুদেরও টার্গেট করা হয় অনলাইনে।
জেসিকা বলেন, “আমরা ঠিক আছি। কিন্তু আমার পরিবার ও বন্ধুদের ওপরও আক্রমণ করা হচ্ছে।” তার এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে,খেলার আবেগ কি এতটাই অন্ধ হতে পারে, যেখানে একজন ক্রিকেটারের পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়?
মূল ঘটনা শুরু হয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচে। মাঠে ট্রাভিস হেডকে উত্যক্ত করেন বিরাট কোহলি। জবাবও দেন হেড। তবে ম্যাচ শেষে হেড করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালেও কোহলি তা এড়িয়ে যান বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।
তবে জেসিকার জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও তাকে একইভাবে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল। বিশেষ করে রোহিত শর্মার উইকেটের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারতীয় সমর্থকদের একটি অংশ তখনও সামাজিক মাধ্যমে সীমা ছাড়িয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জেসিকা বলেন, খেলাধুলায় আবেগ থাকবে, কিন্তু সেই আবেগ কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়। ক্রিকেটাররাও মানুষ, তাদের পরিবার আছে,এই সাধারণ বিষয়টিও অনেকের মনে রাখা প্রয়োজন।




