ডাগআউট থেকে উঠেছেন, শুরু করেছেন ওয়ার্ম আপ। আর তাতেই উচ্ছাস সমর্থকদের মনে। একজন খেলোয়াড় শুধু ওয়ার্ম আপ করছেন, এটাই যেন হয়ে গেছে টক অফ দ্যা ম্যাচ। কেননা খেলোয়াড়টার নাম নেইমার জুনিয়ার। যাকে হলুদ জার্সিতে দেখার জন্য অপেক্ষা ছিল ৯৮১ দিন।
১৮ অক্টোবর ২০২৩, ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন নেইমার জুনিয়ার। যদিও ৪৫ মিনিট খেলে মাঠ ছাড়তে হয় এই তারকাকে। এরপর আড়াই বছরে বদলে যায় ব্রাজিল দল। উড়ুগুয়ের বিপক্ষে সেই একাদশের মাত্র ৫ জন খেলোয়াড় থাকেন নেইমারের ফেরার দিন শুরুর একাদশে। মাঝে ব্রাজিল খেলে মোট ৩৫ ম্যাচ। এতদিনের অপেক্ষার পর নেইমার নামলেন মাঠে।
নেইমার যখন মাঠে নামলেন, দলের জয় অনেকটাই ছিল নিশ্চিত। ততক্ষণে ৩ গোলের লিড সেলেসাওদের। কুনহার বদলি নেমে তাই নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার পালা ছিল এই তারকার। আবার অনেকদিন পর মাঠে নেমে ব্রাজিলের জার্সিতে ছিল উপভোগের সুযোগ।
তবে এর মাঝেও নেইমার নিজের ম্যাজিক দেখান। ১৪ মিনিট খেলেই করেন ৩ বার চাঞ্চ ক্রিয়েট, একমাত্র রায়ান করতে পারে তার চেয়ে বেশি চাঞ্চ ক্রিয়েট। এই সময়ে একবার টার্গেটে শটও করেন নেইমার। ভিনিসিয়াসকে যে পাস দেন, সেখান থেকে ছিলেন এসিস্ট পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। বল পায়েও ছিলেন দারুণ সাবলীল, পাসিং করেছেন ৯২ ভাগ হারে। মাত্র ১৪ মিনিট খেলেছেন দীর্ঘ ইঞ্জুরি থেকে ফিরে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিয়েছেন ৯৮১ দিন পর। এরপরও নেইমির ছাপ পড়ে মাঠে।
যে পারফর্মেঞ্চ যেন ভক্তদের বার্তা দিয়ে দেয়।।নেইমার জানান দেন তিনি এসেছেন, দুশ্চিন্তার নেই কারণ। বিশ্বকাপে যে দল হয়ে উঠছে ব্রাজিল, সেখানেই নেইমার ছোয়াতে চান তার জাদুর কাঠির ছোয়া। শেষবেলায় নিজে ফিরে জিততে চান বিশ্বকাপও।
নেইমারকে নিয়ে তাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারে ব্রাজিল দল। গ্রুপপর্বে দাপুটে ফুটবল খেলে পরের রাউন্ডে ব্রাজিল। নকআউটে লড়াইটা কঠিন, তবে এবার ব্রাজিলের সাথে আছেন প্রিন্স নেইমার। ইঞ্জুরি থেকে ফিরে এবার নিজের অসমাপ্ত কাজটাই সম্পন্ন করতে চাইবেন এই উইঙ্গার। আর নেইমির থেকে এটাই প্রত্যাশা সেলেসাও ফ্যানদের। নেইমিকে মাঠে দেখার শান্তি রুপান্তরিত হোক নেইমার হাতে বিশ্বকাপ দেখার উৎসবে।




