বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে মার্কিন কোচ থমাস ডুলির নেতৃত্বে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিবাচক সূচনা করেছে তাঁর দল।
তবে ডুলির সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী নভেম্বরে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দীর্ঘদিনের শিরোপা-খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।
আট বছর পর এই টুর্নামেন্টের আয়োজক বাংলাদেশ। সবশেষ ২০০৩ সালে শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এরপর বহুবার সুযোগ এলেও ট্রফি আর দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। এবার হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা।
সাফের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে নিজের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন থমাস ডুলি।
তিনি জানান, অল্প সময়ে দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলেও খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের মানসিকতা গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, প্রীতি ম্যাচের তুলনায় টুর্নামেন্টের চাপ ও গুরুত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন, আর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই প্রস্তুত বাংলাদেশ।
জয়ের মানসিকতা নিয়ে নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডুলি বলেন, “তবে আমার সবসময় যে মানসিকতা থাকে,যখন আমি খেলতাম, যখন আমি কোচিং করাতাম, আমি প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই।
আমরা কার বিপক্ষে খেলছি তা বিবেচ্য নয়। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা বা অন্য যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা যা আমার আছে এবং আমাকে খেলোয়াড়দের মধ্যেও এটি স্থানান্তর করতে হবে যাতে তারাও একই কথা ভাবে।”
বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত ও নেপালের মতো দলগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ডুলি।
তবে তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের শক্তি নয়, ম্যাচের দিন নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তাই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি বা ইংল্যান্ড বা এমন কোনো দলের বিপক্ষে খেলছি না, আমরা আমাদের প্রতিবেশী দলগুলোর বিপক্ষে খেলছি। যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে একটু পিছিয়ে আছে বা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে একটু এগিয়ে আছে।
মাঠে নামার সময় আমাদের কী ধরনের মানসিকতা থাকে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ডুলিকে আশাবাদী করে তুলেছে। তাঁর বিশ্বাস, একই লড়াকু মানসিকতা ধরে রাখতে পারলে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারবে বাংলাদেশ।
এখন দেখার বিষয়, নতুন কোচের অধীনে হামজা চৌধুরীদের এই মানসিকতার পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত দুই দশকের অপেক্ষা ঘুচিয়ে শিরোপা এনে দিতে পারে কি না।




