বাংলাদেশের ফুটবলে একজন নিয়মিত গোলস্কোরিং স্ট্রাইকারের অভাব বহুদিনের। ভালো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় থাকলেও, প্রতিপক্ষের বক্সে দাঁড়িয়ে সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিয়মিত গোল করার মতো একজন স্ট্রাইকার এখনও সেভাবে পাওয়া যায়নি।
তবে এই অভাব যেন পুরণ হতে চলেছে এবার। রেডিমেট স্ট্রাইকার হিসেবে এবার প্রস্তত হচ্ছেন ইংলিশ বংশদ্ভূত জায়ান হাকিম।
এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় খবরটা এসেছে ফিফাকে ঘিরে। বাংলাদেশের হয়ে খেলার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেয়েছেন জায়ান, এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। অর্থাৎ এখন আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামতে তার সামনে বড় কোনো বাধা নেই।
সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই লাল সবুজের জার্সিতে দেখা যেতে পারে এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারকে।
জায়ান হাকিম বর্তমানে ইংল্যান্ডের নর্দার্ন প্রিমিয়ার লিগ ডিভিশন ওয়ান মিডল্যান্ডসের ক্লাব ওয়েলিংবরো টাউনে খেলেন। যেটা ইংল্যান্ডের ৮ম টায়ারের ক্লাব। ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ১.৮৮ মিটার উচ্চতার এই ফরোয়ার্ড মূলত বাম পায়ে খেলেন এবং তার শারীরিক গঠন ও সরাসরি আক্রমণাত্মক খেলার ধরনই তাকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য নাম্বার নাইন হিসেবে আলোচনায় এনেছে।
জায়ান এর আগে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্তরের ফুটবলে খেলেছেন এবং এখন নর্দার্ন প্রিমিয়ার লিগ ডিভিশন ওয়ান মিডল্যান্ডসে নিজের জায়গা তৈরি করছেন।
এর আগে নানা উচু লীগে খেললেও গেমটাইমের জন্য জায়ান এসেছেন তুলনামূলক নিচু লীগে। তবে সেখানে তার গোল স্কোরিং ক্ষমতা দুর্দান্ত। এমনকি তার ফিজিক্যালিটি ও ফিনিশিং দক্ষিণ এশীয় মঞ্চে পাওয়া বিরল। যা তাকে দিয়েছে বাংলাদেশের আর্লিং হলান্ডের খেতাব
তবুও জায়ানের আগমন বাংলাদেশের ফুটবলে নিঃসন্দেহে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। বহুদিন পর জাতীয় দলে একজন শক্তিশালী, তরুণ এবং সম্ভাবনাময় স্ট্রাইকারকে ঘিরে এত আলোচনা হচ্ছে। আগামী দিনে জায়ানকে পাওয়ার নিশ্চয়তা এই আলোচনাকে করেছে দীর্ঘ।
এখন অপেক্ষা শুধু মাঠে নামার। ফিফার অনুমতি পাওয়া গেছে, বাংলাদেশের জার্সি পরার পথও খুলে গেছে। এবার জায়ান হাকিমকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি শুধু বাংলাদেশের ‘হালান্ড’ নামে পরিচিত হতে চান, নাকি সত্যিই বাংলাদেশের আক্রমণভাগের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হয়ে উঠতে পারেন, নাকি কিউবাদের মত থাকেন আক্ষেপের এক নাম হয়ে।




