বিশ্বকাপের পর আবারো মাঠে নামতে যাচ্ছে ব্রাজিল দল। এই মাসেই অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠের ফুটবলে ফিরবে সেলেসাওরা।
একইসাথে ভারতের সাথেও রয়েছে ব্রাজিল ফুটবল দলের ম্যাচ। এই সময়ে যে পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে ব্রাজিল দলে, সেটাই ছিল অনুমেয়। ২০৩০ বিশ্বকাপ ভাবনায় প্রাথমিক দলেও এসেছেন অনেক মুখ, অনেকে পড়েছেন বাদ। তবে এর মাঝেও সবচেয়ে অবাক করেছে ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার যে লুকাসের দলের অন্তভুক্তি।
জে লুকাসের পুরো নাম হোসে লুকাস গোমেস দা সিলভা। মাত্র আট বছর বয়সে স্পোর্ত রেসিফের যুব একাডেমিতে যোগ দেন তিনি।
শুরুটা হয়েছিল ফুটসাল দিয়ে, পরে মাঠের ফুটবলে এসে দ্রুতই নিজের সামর্থ্যের জানান দেন। সেখান থেকেই বর্তমানে আছেন ব্রাজিলের শীর্ষ লীগের ক্লাবে।
প্রথমবার লুকাস নজর কাড়েন সেলেসাও বয়সভিত্তিক দলের হয়ে। অনুর্দ্ধ ১৭ পর্যায়ে ব্রাজিলের হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলেন লুকাস, করেন দুর্দান্ত পারফর্মেঞ্চ। এমনকি ব্রাজিলকে অনুর্দ্ধ ১৭ বিশ্বকাপের নিয়ে যান সেমিফাইনালে। আর সেখানেই ভক্তদের নজর কাড়েন প্রথমবারের মত।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে সিনিয়ার পর্যায়ে অভিষেক হয় লুকাসের। স্পোর্ট রেসিফির হয়ে দুই মৌসুমে ৫৭ ম্যাচও খেলেন তিনি, সেটাও ১৮ হবার আগেই।
এরপর তার পারফর্মেঞ্চের জন্য তাকে দলে ভেড়ায় লীগের অন্যতম শক্তিশালী দল ক্রুজেও। বর্তমানে এই ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন লুকাস। আছে ইউরোপের বড় দলের গুঞ্জনও। বয়সে সতীর্থদের চেয়ে অনেক ছোট হলেও মাঠে তার পরিণত পারফরম্যান্স দ্রুতই নজর কাড়ে।
জে লুকাস মূলত রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার। তবে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি। মাঝমাঠে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্পেস বোঝার ক্ষমতা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ আগেই আঁচ করে বল দখলে নেওয়া এবং দ্রুত বল সামনে এগিয়ে দেওয়া।
শুধু বল কেড়ে নেওয়ার কাজেই দক্ষ নন তিনি, প্রয়োজন অনুযায়ী খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতেও দেখা যায় তাকে। অর্থ্যাৎ যে টেম্পো কন্ট্রোলারের অভাব ছিল ব্রাজিল দলে, সেখানেই আশা দেখাচ্ছেন লুকাস।
এই টেম্পো কন্ট্রোলার রদ্রিই এবার বিশ্বকাপের হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়, জিতিয়েছেন দলকে। আগামী দিনে তাই নিজেদের রদ্রি বের করতেই কার্লোর বোধহয় নজর ছিল লুকাসের দিকে।
এই মুহুর্তে লুকাসের সবকিছুই তাই ভক্তদের কাছে আশাজনক। লুকাস অল্প বয়সেই সিনিয়ার দলে খেলেছেন উল্লেখযোগ্য ম্যাচ, বয়সভিত্তিকেও কেড়েছেন নজর। আবার অভিজ্ঞ কার্লোর আকর্ষণ পেতেও নেননি সময়।
যে ধরণের প্রোফাইলের খেলোয়াড় তিনি, সে ধরণের মিডফিল্ডার রাজত্ব করছে বিশ্বজুড়ে। সব মিলিয়ে লুকাসের থেকে আগামী দিনে তার সেরাটাই দেখতে চাইবে ভক্তরা, চাইবে ব্রাজিলের জার্সিতে বের হয়ে আসুক আরেক জাদুকর।




