একটা সময় ১৪০ কিমি গতিতে বল করার বোলার ছিলনা বাংলাদেশে। সেখান থেকে বদলেছে দেশের ক্রিকেট, বিশেষ করে পেস বোলিং।
বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন এক বোলার রয়েছেন, যিনি করতে পারেন ১৫০ কিমি এর চেয়ে বেশি গতিতে বল।
দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের ফ্রাঞ্চাইজীতেও ভালো করেছেন যিনি, কেড়েছেন সবার নজর। সেই নাহিদ রানা যেন দেশের ক্রিকেটের মধ্যমণি।
কিন্ত সম্পদ যত দামী হবে, তাকে করতে হবে সেরকম যত্নও। সে যত্ন করতে নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও।
দেশের ক্রিকেট তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটে নাহিদ রানার মত পেসার পাওয়া বিরল। আর সেখানেই তাই একবার এই প্রতিভা হারালে আফসোস করতে হবে সবাইকে। তাই সময় থাকতেই হতে হবে সতর্ক
নাহিদ রানাকে নিয়ে বিসিবির পরিকল্পনা থাকতে হবে পরিষ্কার। আগামী দিনে ২ মাসে অত্যন্ত ব্যাস্ত সুচি বাংলাদেশ দলের।
সেখানে টেষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৪ টেষ্ট রয়েছে। আবার রয়েছে অতিরিক্ত এক টেষ্ট ও একাধিক অডিয়াই ম্যাচ। আর ১ মাসের ব্যাবধানে অনেকটা এই ম্যাচগুলো হবে আলাদা ৩ দেশে। সেখানেই সতর্ক থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
অষ্ট্রেলিয়ার মাঠে তাদের বিপক্ষে টেষ্টে নাহিদের সার্ভিস পায়নি বাংলাদেশ। কিন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে একই ভুল করতে চাইবেনা বাংলাদেশ দল।
তার আগে রয়েছে উইন্ডিজের বিপক্ষে টেষ্ট সিরিজ। টেষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করতে ঘরের মাঠে সে সিরিজে জয়ভিন্ন অন্য ভাবনা থাকবেনা টাইগারদের। এই সময়ে তাই নাহিদকে চাই জরুরীভাবে। দ্রুত সময়ে নাহিদকেও করতে হবে প্রস্তত।
আর সেখানেই লোভ দমন করতে হবে ক্রিকেট বোর্ডের, এমনকি ক্রিকেট ফ্যানদের। এর মাঝে বিগ ব্যাশ থেকে প্রস্তাব এসেছিল নাহিদ রানার, আগ্রহী ছিল একাধিক ক্লাব। সেখানে অনুমতি মেলেনি বোর্ডের কাছ থেকে। অনেক ভক্তই সেখানে মন খারাপ করেছিলেন, অনেকেই বিগ ব্যাশের মত আসরে আরেক বাংলাদেশীকে দেখার লোভ করেছিলেন।
তবে বিগ ব্যাশ লম্বা এক লীগ, সেটাও নানা কন্ডিশনে খেলতে হয়। টি২০ ক্রিকেটে প্রেসারও থাকে বেশ। নাহিদের জন্য এমন লীগ তাই আনতে পারত ইঞ্জুরি শঙ্কা।
সামনেও বড় বড় লীগে নাহিদকে খেলতে দিতে পরিকল্পনা সাজাতে হবে বিসিবিকে। কখন এনওসি দেওয়া যাবে ও কখন যাবেনা সেটাও ভাবতে হবে।
পেস বোলিংএ বিপ্লব এসেছে বাংলাদেশে, তবে এর খারাপ দিকটাও ফুটে উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ইঞ্জুরির পর রিদম হারিয়েছেন ইবাদত হোসেন।
আবার দীর্ঘ খেলার মধ্যে থেকে গতি ও ফিটনেস নিম্নমুখী তাসকিন আহমেদের ক্ষেত্রে। পেসার তানজিম হাসান সাকিব আছেন লম্বা সময় মাঠের বাইরে।
অর্থ্যাৎ সম্ভাবনাও যেমন আছে, আছে শঙ্কার জায়গাও। সেই শঙ্কার মধ্যে নিশ্চয়ই নাহিদের মত একজনকে ফেলে দিতে চাইবেনা বাংলাদেশ দল।
তাই লোভী নয়, সর্বোচ্চ সতর্কই হতে হবে সবাইকে। দেশের সম্পদকে ব্যাবহার করতে না পারলে আগামী দিনে তাতে প্রভাব পড়বে দেশের ক্রিকেটেই, যা আনবেনা ভালো কোন ফল।




