মেসির প্রাইম টাইম কোনটি? অনেকের মতে মেসির কোন প্রাইম নেই, তার সারাজীবনই প্রাইম৷ কিন্ত এরপরও আলাদাভাবে বললে ভক্তদের কাছে আসবে ২০১২-১৩ মৌসুমের হিসাব।
সেখানে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৯১ গোলের কীর্তি গড়েন এই ফুটবলার। তবে এবার সেই মৌসুমের মেসির রেকর্ডেও বসেছে ভাগ। আর সেই ভাগটাই বসালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে পাওয়া চোটের কারণে কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল রাফিনিয়াকে।
চোট কাটিয়ে ফিরলেও শুরুতে নিজের চেনা ছন্দে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। আগের মতো ধারালো মনে হচ্ছিল না আক্রমণভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে। তবে দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে আলাভেসের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। তাঁর গোলে ম্যাচের বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।
চাইলে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করতে পারতেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। তবে চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে আগেভাগেই মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ। তাতেও অবশ্য তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনে কোনো কমতি পড়েনি এই ব্রাজিলিয়ানের।
আলাভেসের বিপক্ষে দুই গোলের সুবাদে চলতি লা লিগায় রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। আর তাতেই স্পর্শ করেছেন মেসির সেই বিশেষ কীর্তি। ২০১২-১৩ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগার প্রথম ১১ ম্যাচে ১৫ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এক যুগেরও বেশি সময় পর সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা।
একদিক থেকে মেসির রেকর্ডও ভেঙেছেন রাফিনহা। কেননা গোলের দিক থেকে সমান হলেও মিনিটে চেয়ে মেসির চেয়ে কম মাঠে নেমেছেন এই ফরোয়ার্ড। বার্সেলোনার চলতি মৌসুমের ১১টি লিগ ম্যাচের মধ্যে তিনি খেলেছেন ১০টিতে।
এর মধ্যে শুরুর একাদশে ছিলেন মাত্র নয় ম্যাচে। অর্থাৎ কম সুযোগ পেয়েও ১৫ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
শুধু তাই নয়, চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর গোলদাতাদের তালিকাতেও সবার ওপরে রয়েছেন তিনি।
লা লীগাতে গোলের দিক থেকে আছেন স্বাভাবিকভাবে সবার উপরে। এই মৌসুমে রাফা পেছনে ফেলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল ও এরলিং হালান্ডের মতো তারকাদের। ১৫ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ১১টি। ১০ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। নিসন্দেহে নিজের এই সময়টা দারুণভাবে উপভোগ করছেন এই ব্রাজিলিয়ান।
সব মিলিয়ে রাফিনহার থেকে এমন পারফর্মেঞ্চ ধারাবাহিকভাবে চাইবে ব্রাজিল ও বার্সেলোনা ভক্তরা। আগামী দিনে যে দুই দলের জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছেন তিনি, সেটারই যেন প্রমাণ রাখলেন মেসির রেকর্ড ভাঙার মধ্য দিয়ে।




