যেখানে অভিজ্ঞরা চাপ সামলাতে ব্যর্থ, সেখানেই সাহসী লড়াইয়ে উদ্ভাসিত এক নবীন।
অভিষেকের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই পারভেজ হোসেন ইমন যেন জানিয়ে দিলেন—এই মঞ্চে তিনি এসেছেন স্থায়ী হতে।
শুরুতে ধাক্কা খাওয়া বাংলাদেশের ইনিংসে নিজের জায়গা গড়ে নিয়ে ৬৯ বলে ৬৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেললেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট আর তার ইনিংসের ধরণ বলছে—ইমন এখন কেবল নাম নয়, আশার আরেক নাম।
দিনের শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরেছেন মাত্র ৭ রানে।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর বল আউটসাইড এজ হয়ে সরাসরি চলে যায় কিপার কুশাল মেন্ডিসের গ্লাভসে।
দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটে চলে যায় সফরকারীরা।
ঠিক সেই সময় উইকেটে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অন্য প্রান্তে তখনই থিতু হচ্ছেন পারভেজ হোসেন ইমন।
শুরুতে দেখেশুনে খেলার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে চালিয়ে খেলতে শুরু করেন ইমন।
ইনিংসের দশম ওভারে চারিথ আসালাঙ্কার এক ওভারে টানা চার ও ছক্কা মেরে ৪৬ বলেই ওডিআই ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন তিনি।
ইমনের ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তার ব্যাটিংয়ের পরিণত ভাব।
তিনি জানতেন, শুরুতেই বড় ধাক্কা খাওয়ার পর চাপটা দলকে সামলাতে হবে ওপেনিং জুটির পরিবর্তে গড়ে ওঠা নতুন পার্টনারশিপে।
তাই শুরুতে একটু সময় নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নেন। এরপরই শুরু করেন শট খেলা। ইনিংসে ছিল ৫টি চারের পাশাপাশি ছিল ৩টি ছক্কার মার।
স্ট্রাইক রোটেট করার দক্ষতা ও স্পিনারদের বিপক্ষে ইতিবাচক অ্যাপ্রোচ স্পষ্ট বোঝায়, তিনি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
অপর প্রান্তে শান্ত ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আসালাঙ্কার বলে ব্যাকফুটে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে তুলে দেন ক্যাচ।
থিকশানার হাতে ধরা পড়ে ফিরতে হয় তাকে ১৯ বলে ১৪ রান করে।
যদিও শান্তের ইনিংস ছোট হলেও ইমনের সঙ্গে তার জুটি দলকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
শেষ পর্যন্ত ইমন থামেন ইনিংসের মাঝপথে, দলীয় ১১০ রানে। ৬৯ বলে ৬৭ রানের ইনিংসটি কেবল সংখ্যা নয়, বরং ছিল আত্মবিশ্বাস, টেম্পারামেন্ট এবং সম্ভাবনার প্রকাশ। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ওপেনিং সমস্যার সময় তার এমন ইনিংস যেন এক স্বস্তির বাতা
পারভেজ হোসেন ইমন প্রমাণ করে দিয়েছেন, ট্যালেন্ট থাকলেই হয় না, দরকার সময়মতো নিজেকে মেলে ধরার সাহস।
অভিষেকের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেই সাহস, মেজাজ ও পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠার পথে এক বড় পদক্ষেপ রেখেছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই তরুণ এখন কেবল একজন ব্যাটার নয়, সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।




