যখন একের পর এক ব্যাটার ফিরে যাচ্ছেন, তখন একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সাহসী এক ইনিংস খেললেন তানজিম হাসান সাকিব।
ব্যাট হাতে তিনি যেন আজকের দিনটির নায়ক। শেষের দিকে মাঠে নেমে বাংলাদেশকে টেনে তুললেন ২৪৮ রানে।
হাসারাঙ্গার এক ওভারে টানা দুই ছক্কা মেরে জানিয়ে দিলেন—”সিচুয়েশন যাই হোক, আমি আছি!” অভিজ্ঞদের মধ্যে যখন দায়িত্বের ঘাটতি, সেখানে এই তরুণ অলরাউন্ডার হয়ে উঠলেন গর্ব।
টাইগারদের ইনিংস শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়ে। প্রথম ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ হাসান তামিম এদিন ফিরেছেন মাত্র ৭ রানে।
এরপর শান্ত ১৪, মিরাজ ৯ ও শামীমের ব্যর্থতায় ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। তবে আশার আলো দেখিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। দুই তরুণই তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। ইমন ৬৯ বলে ৬৭ ও হৃদয় ৬৯ বলে ৫১ রান করেন।
কিন্তু হৃদয়ের রান আউট যেন মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তখন স্কোরবোর্ডে ২২০ রান, হাতে এক উইকেট। আর ঠিক তখনই মাঠে নামেন তানজিম হাসান সাকিব। তিনি বুঝিয়ে দেন, ব্যাট হাতে তিনিও বিপক্ষের জন্য হুমকি।
বিশেষ করে হাসারাঙ্গার এক ওভারে টানা দুটি বিশাল ছক্কা মেরে হাওয়া বদলে দেন। বোলার ছিলেন একজন নামী স্পিনার, কিন্তু সাকিব ছিলেন নির্ভীক। তার ব্যাট থেকে আসে আরও দুটি চমৎকার চার। মাত্র ২১ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু একজন পেসার নন, একজন ‘কমপ্লিট ক্রিকেটার’।
তার ব্যাটিংয়েই শেষ উইকেট পর্যন্ত লড়াই করে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ১০ম উইকেটে কিছু রানও যোগ করেন তিনি।
তবে ইনিংসটি শেষ হয় যখন মোস্তাফিজ হাসারাঙ্গার বলেই এলবিডব্লু হন। তখন দল থামে ৪৫.৫ ওভারে, ২৪৮ রানে।
কিন্তু যা করার, সেটুকু করেছেন সাকিব। যদি একপ্রান্তে আরও একজন দায়িত্বশীল ব্যাটার থাকতেন, হয়তো স্কোরটা ২৭০–এর ঘরে চলে যেত।
তানজিমের ব্যাটিং শুধু রান নয়, এটা ছিল এক ধরণের বার্তা—ম্যাচ যেভাবেই যাক, লড়াই শেষ করা যায় সাহসিকতা আর মস্তিষ্ক দিয়ে।
বল হাতে বরাবরই তিনি কার্যকর, কিন্তু আজ ব্যাট হাতেও দলকে প্রাণ দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন, তার জায়গা এখন শুধুই পেসার হিসেবে নয়—পুরো দলকে টেনে তোলার মতো একজন ‘ফাইটার’ হিসেবে।
তানজিম হাসান সাকিবের ২১ বলে ৩৩ রানের ইনিংস ছিল অনন্য। দলের প্রায় ভেঙে পড়া ইনিংসে শেষ আলো হিসেবে জ্বলে উঠলেন এই তরুণ।
হাসারাঙ্গাকে টানা দুই ছক্কা মেরে প্রমাণ করলেন, বিপদের সময় তিনিই হয়ে উঠতে পারেন ত্রাতা।
বাংলাদেশ আজ একটি নতুন গর্ব পেয়েছে—তানজিম হাসান সাকিব।




