১৯৮৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আশরাফুল। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পরই বাজিমাত করেছিলেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরি করে হয়েছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান।
সেই কলম্বো টেস্টের পর যেন দেশের মানুষ তাকে বুকে আগলে রেখেছিল। তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখতো বাংলাদেশ।
কিন্তু সেই আশার ফুল আজ বিবর্ণ। নিজের ভুল, সময়ের নির্মমতা এবং পরিস্থিতির নিষ্ঠুরতায় আজ আশরাফুল জাতীয় দল থেকে অনেক দূরে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আজও বলেন, যদি আশরাফুল একটু স্থিতিশীল হতে পারতেন, হয়তো দেশের ইতিহাসটাই অন্যরকম হতো।
২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিয়েছিলেন।
মাত্র ৪টি টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যে সাহস দেখিয়েছিলেন, তাতেই ক্রিকেটবিশ্ব তাক লাগিয়েছিল। অথচ সেই সাহসী নেতাই আজ ভেসে গেছেন হতাশার স্রোতে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আশরাফুল খেলেছেন ৬১টি টেস্ট, ১৭৭টি ওয়ানডে ও ২৩টি টি-টোয়েন্টি।
তার আন্তর্জাতিক রান থেমে গেছে ২৭৩৭ (টেস্ট), ৩৪৬৮ (ওয়ানডে), এবং ৪৫০ (টি-টোয়েন্টি) রানে।
অথচ সামর্থ্য ছিল হাজার হাজার রান করার। কিন্তু তার ক্যারিয়ারে ছায়া ফেলে বিপিএলের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি।
নিষেধাজ্ঞা আসে, নিষেধাজ্ঞা কমে, কিন্তু থেমে যায় এক সম্ভাবনার উজ্জ্বল সূর্য।
আশরাফুল দেশের ক্রিকেটে ন্যূনতম আরেকটি সুযোগের জন্য তিনি বহু চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ‘ক্ষমা চেয়েও পার না পাওয়ার’ এই বাস্তবতা তাকে ছুঁড়ে ফেলেছে জাতীয় দল থেকে বহুদূরে।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও নির্বাচকদের আস্থার প্রাচীরে জায়গা হয়নি তার। নিজেকে প্রমাণ করেও, ফিটনেস ধরে রেখেও আর কোনোদিন জাতীয় দলে ফেরা হয়নি আশরাফুলের। এখন ক্রিকেট মাঠে নয়, কোচিংকে বেছে নিয়েছেন নিজের দ্বিতীয় ইনিংস হিসেবে। যাদের চোখে স্বপ্ন, তাদের পথ দেখান একসময়কার ‘ক্রিকেটের রাজপুত্র’।
আজ, ৭ জুলাই, তার ৪১তম জন্মদিনে হয়তো নেই হাজারো শুভেচ্ছা, নেই কোনো সংবাদ সম্মেলন, নেই জাতীয় দলের ডাগআউটে উপস্থিতি। কিন্তু আজও তিনি নিজেকে বলেন, “আমি হারিনি, আমি এখনো চেষ্টা করি।”
আশরাফুলের মতো একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের এমন করুণ পরিণতি, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
জন্মদিনে শুভেচ্ছা রইল সেই আশরাফুলের জন্য, যে আজও নিজের শুদ্ধতায় ফেরার স্বপ্ন দেখে, দেখে আবারও একদিন লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নামার স্বপ্ন—যদিও তা আর কখনোই বাস্তব নাও হতে পারে।




