সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী দল। পুরুষ দল যেখানে দীর্ঘদিন শিরোপা বঞ্চিত, সেখানে নারী দল সাফ জয় করছিল নিয়মিত।
তাই তাদের নিয়ে আশাও ছিল বেশি। কিন্ত সেই আশার নৌকা যেন হঠাৎ ফুটো হয়ে যায়। বিদ্রোহ করে বসেন মহিলা দলের ১৮ ফুটবলার।
সেই তালিকায় ছিলেন সাবিনা, মাসুরা, কৃষ্ণা, সুমাইয়ার মত তারকা ফুটবলাররা। কোচের অধীনে ট্রেনিং না করার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
কোচও বেকে বসেন, শেষ পর্যন্ত তাদের ছাড়াই চলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল।
কিন্ত সেখান থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ঘুরে দাঁড়ায়৷ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ৫৫ নাম্বারে থাকা মায়ানমারকে হারায় তাদের মাটিতে।
যে জয় তাদের নিয়ে দেয় অষ্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসের টিকিট। যে আসরে খেলবে অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, উত্তর কোরিয়ার মত ফুটবলীয় জায়ান্ট।
হঠাৎ করে এত বদলে গেলো কিভাবে বাংলাদেশ দল, সেটাই আসলো রয়টার্সের নজরে। বিশ্বের জনপ্রিয় এই গণমাধ্যম তাই প্রশ্ন করলো বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচকে।
সেখানেই দলের বদলে যাওয়ার টোটকা জানান ইংলিশ এই কোচ। বাংলাদেশ নারী দলের দায়িত্বে থাকা বাটলার এদিন বেশ খোলামেলা কথা বলেন রয়টার্সের সাথে। তবে মুলত তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে দলের বদলে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে নিয়ে তাদের উন্নয়নই থাকে বাটলারের প্রধান আগ্রহ, এমনটা জানান তিনি। সেখানে দলে শৃঙ্খলার অভাব ছিল বলে জানান এই ইংলিশ কোচ।
আর সেই শৃঙ্খলা আনতেই জোড় দেন তিনি। খেলোয়াড়দের একটা রুটিনে আনেন এই কোচ।
যার অধীনে সকাল ৫ টায় উঠতে হয়েছে, সকাল ৬ টা থেকে করতে হয়েছে ৯০ মিনিটের ইন্টেন্স ট্রেনিং। প্রত্যেকদিন এমন কিছু সহজ ছিল না খেলোয়াড়দের।
এ নিয়ে ইংলিশ কোচ বলেন “ আমি যখন এখানে আসি এখানে কোন শৃঙ্খলা ছিল। কিছু খেলোয়াড়রা নিজেরা নিজেদের বাছাই করতে ছিল।
আপনি জানেন শৃঙ্খলা না থাকলে কোন দলেই সাফল্য আসেনা। আমি এই দলে সেই শৃঙ্খলাটা আনতে চেয়েছি।
আমার নিজস্ব কিছু বাস্তবায়ন করতে আসেনি আমরা। তবে যাত্রাটা সহজ ছিল না। প্রতিদিন সকাল ৫ টায় উঠ, ৬ টায় ট্রেনিং শুরু করো, ৯০ মিনিট অতি মাত্রায় ও উচ্চ ইন্টেন্সে ট্রেনিং, বেশ কঠিন ছিল। “
র্যাংকিংএ পিছিয়ে পড়া দল, প্রথম সারির তারকা ছাড়াও সফল হতে পারে, যদি দলে থাকে শৃঙ্খলা। এই শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়েই বাংলাদেশ দল আগামী দিনে এগিয়ে যাক, এটাই চাওয়া সবার।




