ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। শুরুতে বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে মাঠে নামে টাইগাররা।
শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য ছিল ১৭৮ রানের। লক্ষ্যটা যতটা কঠিন, তার চেয়েও কঠিন ছিল শরিফুল ইসলামের আগ্রাসনের মুখোমুখি হওয়া।
বল হাতে শুরু থেকেই চোখ রাঙিয়ে বোলিং করে এই বাঁহাতি পেসার। যেভাবে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারকে ধ্বংস করেছেন তিনি, তা নিঃসন্দেহে পেস বোলিংয়ের সৌন্দর্যের নিখাদ উদাহরণ।
শ্রীলঙ্কা ইনিংসের প্রথম ওভারে ৮ রান তোলে তারা। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে আসে প্রথম ধাক্কা মেন্ডিস রানআউট!
শামীমের পয়েন্ট থেকে চোখ ধাঁধানো থ্রোতে ফেরত যান ৮ বলে ৫ রান করা এই ব্যাটার। তখনও বোঝা যায়নি কী অপেক্ষা করছে শ্রীলঙ্কার জন্য।
এরপরই আক্রমণে আসেন শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারে তার বলেই কুশল পেরেরা চার বলে শূন্য রানে রিশাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
শরিফুলের প্রথম শিকার আর ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে শুরু করে তখনই।
তৃতীয় উইকেটের জন্যও বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। মোস্তাফিজের বলে আগের ওভারে ক্যাচ মিস করেছিলেন পারভেজ।
তবে সেই ভুলের খেসারত খুব বেশি দিতে হয়নি বাংলাদেশকে। শরিফুল তার পরের ওভারে ফের নেমে আসেন আগ্রাসী ভঙ্গিতে।
আভিস্কা ফার্নান্দোকে স্কয়ার লেগে ফাঁদে ফেলেন।
বল ব্যাটে লেগেই উড়তে থাকে, আর স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা শামীম কোনো ভুল না করে নিখুঁত ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। তখন স্কোরবোর্ডে শ্রীলঙ্কার রান মাত্র ২৫, আর উইকেট পড়ে গেছে তিনটি!
শরিফুলের আগ্রাসনের ফলে শ্রীলঙ্কা পড়ে যায় চাপে। সেই চাপ থেকে আর বের হতে পারেনি তারা।
এরপর চতুর্থ উইকেটও পড়ে যায় দ্রুতই। স্কোর তখন ৩০, আর সাজঘরে ফিরে গেছেন টপ অর্ডারের চার ব্যাটার।
ম্যাচ তখন পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। শরিফুল ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি উইকেট।
তার প্রতিটি ডেলিভারিতে ছিল আগ্রাসন, গতি ও নিখুঁত লাইন-লেংথের মিশেল।
এই ম্যাচে শরিফুল প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখনও কার্যকর। দলে ফিরেই দাপট দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।
তার বলের গতি, সুইং ও আগ্রাসী মনোভাব মিলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কাবু করেছে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের বোলিং ইউনিট যেভাবে একসঙ্গে কাজ করেছে, তা প্রশংসনীয়। তবে শরিফুল ইসলাম ছিলেন এই আক্রমণের মূল কাণ্ডারি। তার আগ্রাসী স্পেলই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।




