বাংলাদেশ ক্রিকেটে ইনজুরি যেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছিল।
এক সময়ের গতিশীল অলরাউন্ডার, যিনি নিজের মিডিয়াম পেস ও কার্যকরী ব্যাটিং দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা পাকা করতে চলেছিলেন, বারবার থেমে গেছেন শরীরের কারনে ।
কিন্তু হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আবার ফিরেছেন লাল সবুজের জার্সিতে এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি টোয়েন্টি সিরিজে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি সাইফউদ্দিন। বল হাতে ছিলেন কিছুটা খরুচে, উইকেটও পাননি।
ব্যাট হাতে নামার প্রয়োজনও হয়নি। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন এই ফেরাটা কি সঠিক সময়ে?
তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিলেন এই ডানহাতি পেসার।
ভ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন সাইফউদ্দিন।
নিজের চার ওভারের কোটা থেকে মাত্র ২২ রান দিয়ে তুলে নেন দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
লঙ্কান ব্যাটারদের বিপক্ষে বারবার ভাঙেন তাদের ছন্দ, বিশেষ করে তার স্লোয়ার এবং নিখুঁত ইয়র্কার ব্যাটারদের ভোগায় বারবার।
তবে শুধু বলেই নয়, ম্যাচের শেষদিকে ব্যাট হাতেও নিজের অবদান রাখেন তিনি। ইনিংসের শেষ দিকে তিন বলে ছয় রান করে দলের স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করেন। যদিও রানটা ছোট, কিন্তু ম্যাচের প্রেক্ষাপটে তা ছিল কার্যকরী ও প্রশংসনীয়।
অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে আবারো প্রমাণ করার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট।
সাইফউদ্দিনের এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে নির্বাচকদের মনে আবার জায়গা করে দেবে তার জন্য।
ইনজুরির কারণে কয়েকবার বাদ পড়লেও তার দক্ষতা ও ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা এখনো যথেষ্ট কার্যকর।
বিশেষ করে টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে একজন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি হতে পারেন দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
বাংলাদেশ দল সিরিজে সমতা আনতে পেরেছে এই ম্যাচ জয়ে। আর সেই জয়ের পিছনে সাইফউদ্দিনের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
এখন শুধু দেখার পালা, তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে তিনি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন কিনা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা, এই প্রত্যাবর্তন হোক সাইফউদ্দিনের নতুন শুরুর গল্প।
যেখানে ইনজুরি নয়, কথা বলবে শুধুই পারফরম্যান্স।




