সিরিজ শুরুর আগে প্রস্ততি ম্যাচে তুলে নেন ৬ উইকেট৷ সেদিন প্রায় ৬ ওভার বোলিং করে খরচা করেন মাত্র ১০ রান।
নিয়মিত যারা ক্রিকেট এর খুটিনাটি ফলো করেন, স্বাধীন ইসলাম সবার নজরে আসেন সেদিনই।
অনুর্দ্ধ ১৯ দলের সিরিজ দেখতে তাই আরো একটু আগ্রহ বাড়া। জাওয়াদ, তামিমদের সাথে নজর ছিল স্বাধীনের দিকেও।
শুরুর ২ ম্যাচে স্বাধীন প্রমাণ করেন, ফ্লুক ছিল না তার প্রস্ততি ম্যাচের পারফর্মেঞ্চ।
শুরুর ২ ম্যাচেই স্বাধীন ইসলাম তুলে নেন মোট ৫ উইকেট, অথচ এই সময় ১০ অভার বোলিং করেননি স্বাধীন।
মুলত প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা দুই ম্যাচের কোনটাতেই বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ফলে বল করতে হয়নি স্বাধীনদের।
বোলিংএ এসেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপকে গুটিয়ে দেন স্বাধীনরা।
শুরুর ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন একমাত্র তাদের অধিনায়ক মোহম্মদ বুলবুলিয়া।
১০০ এর অধিক স্ট্রাইক রেটে ৭২ করা বুলবুলিয়াকে বোল্ড করেন স্বাধীন। এর বাইরে প্রিটোরিস ও ফিরির উইকেট তুলে নেন।
যার মাঝে ছিল একটি বোল্ড ও একটি এলবিডাব্লিউ। এই ম্যাচে স্বাধীন বল করার সুযোগ পান ৩ অভার, তুলে নেন দুই উইকেট।
এক ছক্কা খেয়েও ৩ ওভারে দেন মাত্র ৯ রান।
পরিসংখ্যানের বাইরে এবার আসা যাক স্বাধীনের বোলিং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।
বাংলাদেশের বোলারদের যেই জিনিসটা নেই, সেই গুগলিটা বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন স্বাধীন।
তার গুগলিতেই বেশিরভাগ সময় পরাস্ত হয় ব্যাটসম্যান। বিশেষ করে তার বল লিভ করতে গিয়ে একবার গুগলিতে বোল্ড হয়ে যান প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান।
গুগলির সাথে অন্য বোলিং ভ্যারিয়েশনও আছে স্বাধীনের। লেগ স্পিন করতে পারেন ন্যাচারাল ভাবে, টপ স্পিনটাও পারেন।
ব্যাটসম্যানের উইকেট ঘেষে বল বের বের করতে পারেন। আটোশোটা বোলিং করতে পারেন, ফলে ব্যাটসম্যানকে বেধে রাখতে সুবিধা হয় তার।
এর বাইরে তার বোলিং ভ্যারিয়েশনে উইকেট দিতে বাধ্য হয় ব্যাটসম্যান। আরো একটি জিনিস নজরকাড়া তারা, সেটা তার উচ্চতা।
রিশাদ হোসেনের মত লম্বা তিনি। তার বোলিং একশন মর্ডান ডে স্পিনারদের মত। যে কারণে স্বাধীন হয়ে উঠেছেন সবার নজরের অংশ।
এই স্বাধীনে পরিচর্যা করলে আগামী দিনে আরো একটি ভালো মানের লেগ স্পিনার পাবে বাংলাদেশ।
শুধু বাংলাদেশ নয়, নিজের সক্ষমতা আন্তজার্তিক মঞ্চে দেখাতে পারলে ফ্রাঞ্চাইজী ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ হবার সম্ভাবনা আছে স্বাধীনের, আর এটা একটুও বাড়িয়ে বলা হচ্ছেনা। এবার দেখা যাক, আগামী দিনে পরিস্ফুটিত কতটা হন স্বাধীন।




