টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন অনেক পেসার,খেলবেন আরো অনেকে,তবে একটা নাম হয়তো আলাদা থাকবে তিনি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান!
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজও এক অবিশ্বাস্য বোলিং প্রদর্শনী উপহার দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৬ রান খরচ করে ৪ ওভারের স্পেলটি শেষ করেন তিনি।
এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে মিতব্যয়ী পূর্ণ কোটা বোলিংয়ের রেকর্ড।
স্লোয়ার, কাটার ও গতির ভিন্নতায় পাকিস্তানি ব্যাটারদের নাকানি-চুবানি খাওয়ান মুস্তাফিজ। প্রথম স্পেলে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মাত্র ১ রান দেন।
এরপর ১২তম ওভারে ফিরে ২ রান খরচ করেন এবং দুর্দান্ত কাটারে অসহায় করে ফেলেন খুশদিল শাহকে।
এই ওভারে রানআউট হন ফাখার জামানও। ১৭তম ওভারে আবার ফিরে দ্বিতীয় বলে তুলে নেন খুশদিলের উইকেট।
পরের বলেই এলবিডব্লিউর আবেদন করলেও রিভিউ না নেওয়ায় ফাহিম আশরাফ বেঁচে যান। ওভার শেষে মাত্র ২ রান খরচ।
শেষ ওভারে ব্যাটসম্যানদের কোনোভাবেই হাত খুলতে দেননি, দেন মাত্র ১ রান। সব মিলিয়ে ১৮টি ডট বল করেন মুস্তাফিজ।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মুস্তাফিজ ভেঙেছেন নিজেরই আগের রেকর্ড।
গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপালের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
ওই ম্যাচেই ৪ ওভারে ৭ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন তানজিম হাসান এবং রিশাদ হোসেন ৭ রানে ১ উইকেট নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
তবে এবার ফিজ সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি ছিল মুস্তাফিজের চতুর্থ ম্যাচ যেখানে তিনি পূর্ণ ৪ ওভারে ১০ রানের কম খরচ করেছেন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের কোনো বোলারের এমন কীর্তি নেই। এই তালিকায় তিনটি করে ম্যাচে এমন বোলিং রয়েছে কেবল সাকিব আল হাসান, ভুবনেশ্বর কুমার ও ইমাদ ওয়াসিমের।
মুস্তাফিজের এই দুর্দান্ত স্পেল কেবল পরিসংখ্যান নয়, পাকিস্তানি ব্যাটারদের চোখে যেন এক দুঃস্বপ্ন। এমন নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনই তাকে করে তুলেছে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নির্ভরতার নাম।




