যত দিন যাচ্ছে, তত দিন প্রতিপক্ষকে হাতের মোয়া বানিয়ে ফেলছেন লিওনেল মেসি। অন্য কেউ হলে হয়ত বলা হত কিভাবে সম্ভব এটা।
কিন্ত লিওনেল মেসি বারবার করছেন বলে বলা হচ্ছে, মেসির পায়ে সব সম্ভব। মেসি যেদিন ফর্মে থাকেন, সেদিন দুনিয়ায় যেকোন কিছুই সম্ভব।
শেষ ৫ ম্যাচে ১০ গোল এসিস্ট, ৫ ম্যাচে ৮ গোল যে মেসি বলেই সম্ভব।
এমএলএসে এদিন আবারো দেখা গেলো মেসি ম্যাজিক। যার শুরুটা করেন এক দারুণ এসিস্ট দিয়ে।
ওয়ান টু ওয়ানে ছিলেন জর্দি আলবার সাথে। সেখান থেকে ডিফেন্সের প্রায় সব খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে অসাধারণ এক পাস দেন জর্দি আলবাকে।
হয়ত কেউই চিন্তা করতে পারেননি এভাবে এক পাস দেওয়া সম্ভব। মেসির পাসকে হেলায় হারাননি আলবা, নিখুত ফিনিশিংএ গোল আদায় করে দলকে এনে দেন লিড।
এরপর প্রথমার্থে আরো দুই গোল আদায় করে ইন্টার মায়ামি। গোল আদায় করেন মায়ামির নিয়মিত পারফর্মার সেগোভিয়া।
তাকে এসিস্ট করেন সাবেক বার্সা বয় জর্দি আলবা ও আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ফেডেরিকো রেডোন্ডো৷ সেগোভিয়ার ২৭ ও ৪৫ মিনিটের গোলে প্রথমার্থেই ৩ গোল আদায় করে মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্থে আবারো ম্যাজিক নিয়ে হাজির লিওনেল মেসি। এবার তাকে এসিস্ট করেন স্প্যানিশ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বুস্কেটস।
নিজের অর্ধ থেকে যেভাবে অসাধারণ পাস দেন বুস্কেটস, সেটিও ছিল দেখার মর।
যে পাসে অফসাইডে এরিয়ে একাধিক খেলোয়াড়কে পরাস্ত করে বল যায় মেসির কাছে। বল পায়ে ওয়ান ভি ওয়ানে মেসি, গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে চলে যান পাসে।
এবার ঠান্ডা মাথার ফিনিশে আদায় করেন দলের চতুর্থ গোল।
মেসির দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল আসে ৭৫ মিনিটে। এবার ক্রেমাশ্চি বল বাড়ান সুয়ারেজের উদ্দেশ্যে।
সে বল মেসির উদ্দেশ্যে দেন সুয়ারেজ। বল পেয়ে সেটাকে বাউন্স ব্যাক করতে দেন মেসি, এরপর নেন নিয়ন্ত্রণে।
ভাসমান বলে বা পায়ে শট করেন, সেই বল খুজে নেয় জালের ঠিকানা।
৭৫ মিনিটে ৫ গোল আদায় মায়ামির, মেসির আরো ২ গোল৷ অথচ ম্যাচের শুরুটা করেছিল প্রতিপক্ষ নিউওয়ার্ক রেড বুলস।
১৫ মিনিটে হ্যাকের গোলে লিড নেয় তারা। কিন্ত এরপর মেসি তান্ডবে লজ্জাজনক হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
শেষ ৫ ম্যাচে ৮ গোল সহ ১০ গোল এসিস্ট। আসরে ১৮ ম্যাচে ২৫ গোল এসিস্ট।
গত আসরে এমএলএসের সেরা হওয়ার পর মেসির সামনে আবারো এই পুরষ্কার ধরে রাখা যেন সময়ের ব্যাপার।
বিশ্বকাপের আগে মেসির এমন উড়ন্ত ফর্ম আর্জেন্টিনাকে আশা দেখাচ্ছে আরো একটি রুপকথা লেখার৷




