লিটন দাস যেদিন টিকে যান সেদিন যেমন ব্যাট হাতে নিখুঁত, নেতৃত্বেও তেমনি শাণিত।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে শেষ দুইটি ম্যাচ জিতে দলকে সিরিজ জয়ের আনন্দ দিয়েছিলেন।
এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলেন তিনি।
সব মিলিয়ে অধিনায়ক লিটনের অধীনে বাংলাদেশ দল পেয়েছে টানা চারটি টি-টোয়েন্টি জয়, যা নিঃসন্দেহে তার নেতৃত্বগুণের বড় প্রমাণ।
লিটনের ক্যাপ্টেন্সির সবচেয়ে বড় দিক ছিল তার বোলার ব্যবহারের কৌশল।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও তার বোলিং চেইঞ্জ ছিল কার্যকর, কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে তা যেন আরও নিখুঁত হয়ে ওঠে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে তার স্বভাবসিদ্ধ বোলিং করার স্বাধীনতা দিয়েছেন লিটন।
সেইসঙ্গে সাজিয়েছেন এমন এক ফিল্ডিং সেটআপ, যা ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ বাড়িয়েছে প্রতিটি বলেই।
পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনোভাবেই মুস্তাফিজকে চার্জ করতে পারেননি, যার কৃতিত্বের বড় অংশই লিটনের দূরদর্শী পরিকল্পনায়।
তাছাড়া, পার্ট টাইমার শামীম হোসেনকে এনে সঠিক সময়ে বোলিং করিয়ে দিয়েছেন রানচাপ।
অনেক অধিনায়কই যেখানে এই জায়গায় ভুল করে বসেন, লিটন ঠিক সময়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিটি বোলারকে নিজের জায়গা থেকে সেরা খেলাটা তুলে ধরতে সাহায্য করেছেন।শরিফুলের দারুন শুরু তারই প্রমান।
মাঠের ফিল্ডিংয়ে তার তীক্ষ্ণ নজর, ব্যাটসম্যানের ধরন বুঝে ফিল্ডার পজিশন পরিবর্তন, আর বোলিং চেইঞ্জের সঠিক হিসাব,সব কিছু মিলিয়ে তার অধিনায়কত্ব ছিল টপ ক্লাস।
তবে, ক্রিকেট এমন এক খেলা যেখানে শুধুমাত্র ভালো নেতৃত্ব দিয়েই সব কিছু জয় করা যায় না।
দলের অন্যান্য সদস্যদের পারফরম্যান্সও সেখানে বড় ভূমিকা রাখে।
তবুও, যেভাবে লিটন দেশ-বিদেশে একই ধারায় বোলারদের কাজে লাগিয়ে ম্যাচ বের করে আনছেন, তাতে তার অধিনায়কত্ব ভবিষ্যতের জন্য বড় আশার আলো হয়ে উঠছে,তা বলাই যায়,কেননা ক্রিকেট থেকে মুখ ফেরানো দর্শকরা চোখ তুলে তাকিয়েছে লিটন অধিনায়ক হিসেবে সফলতা এনে দেওয়ার পরেই।




