৩ আগস্ট ২০১৭, ফুটবল ইতিহাসে ঘটে অবিস্মরণীয় এক ঘটনা।
রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে সেবার নেইমারকে দলে ভেড়ায় পিএসজি। বার্সেলোনা থেকে সেবার নেইমিকে নেয় তারা।
যদিও নেইমারকে ছাড়তে মোটেও আগ্রহী ছিল না বার্সা। তবে সেখানে বার্সার দেওয়া রিলিজ ক্লজেই নেইমারকে দলে নেয় পিএসজি।
এই ব্রাজিলিয়ানকে নিতে পিএসজিকে খরচ করতে হয় ২২২ মিলিয়ন ইউরো।
আর সেখানেই ট্রান্সফারমার্কেটের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় বনে যান নেইমার।
এর ৩৬০ দিন আগে ১০৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে ফ্রাঞ্চের পল পগবাকে দলে নেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ট্রান্সফারমার্কেটে তখন সেটাই ছিল সর্বোচ্চ ট্রান্সফারের রেকর্ড। যেটাকে ভেঙে দেয় পিএসজির নেইমারের ট্রান্সফারের।
এবার নিজের রেকর্ড নিয়ে আরো এক রেকর্ড করলেন নেইমার।
২০১৭ সালের ৩ আগষ্ট নেইমার পিএসজি ছাড়েন, বর্তমানে ২০২৫ সালের আগষ্টে পা পড়েছে।
অর্থ্যাৎ ৮ বছর ধরে ট্রান্সফার মার্কেটের কেনাবেচার সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমার জুনিয়ার।
সংখ্যার বিচারে যা ২৯২২ দিন। আর সেখানেই নেইমার গড়েন রেকর্ড।
সং্খ্যার বিচারে এর আগে দীর্ঘস্থায়ী ট্রান্সফার ছিল ফ্রেঞ্চ তারকা জিনেদিন জিদানের।
সাবেক বিশ্বকাপজয়ী এই তারকাকে ২০০১ সালে কিনে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ।
সেবার জিদানকে কিনতে ৭৫ মিলিয়ন খরচ করে লস ব্লাঙ্কোসরা। যেটাই ছিল খেলোয়াড় কেনা বেচায় তৎকালীন সর্বোচ্চ খরচ।
যেই রেকর্ড স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ৮ বছর। সংখ্যার দিনে যা ২৯১৩ দিন৷ ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদই ভাঙে এই রেকর্ড।
তারা দলে ভেড়ায় সময়ের অন্যতম সেরা তরুণ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ইউনাইটেড থেকে তাকে আনতে রিয়াল মাদ্রিদের গুণতে হয় ৯৪ মিলিয়ন ইউরো। আর তাতেই ভেঙে যায় জিদানের রেকর্ড।
এরপর আবারো রিয়াল মাদ্রিদ ভাঙে রোনালদোর রেকর্ড। ২০১৩ সালে টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে তারা দলে ভেড়ায় আলোচিত রাইট উইঙ্গার গ্যারেথ বেলকে, যে গতির ঝড় তুলত মাঠে। ১০০ মিলিয়নে কেনা হয় বেলকে।
৩ বছর পর বেলের রেকর্ড ভাঙেন পল পগবা। যাকে কেনা হয় ১০৫ মিলিয়ন ইউরো থেকে। তবে এর পরের বছর দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ দিয়ে কেনা হয় নেইমিকে। যে ট্রান্সফারই সর্বোচ্চ এখন পর্যন্ত।
নেইমারের ট্রান্সফার এখন পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেননি। এমনকি ১৫০ মিলিয়ন এর অধিক মুল্যে ট্রান্সফার হয় একবার, সেটাও করে নেইমারের ক্লাব পিএসজি। এর বাইরে নেইমারের কাছাকাছিও হয়নি ট্রান্সফার।
বর্তমানে অনেক চড়ামুল্যে হয় খেলোয়াড় আদান প্রদান। এমনকি মাঝারি মানের তারকাদেরও আকাশচুম্বী দাম থাকে।
এরপরও এখনও কেউ ছুতে পারেননি নেইমারের মুল্যকে। নিজের প্রাইমে কতটা প্রতিভাবান ও চাহিদাসম্পন্ন ছিলেন নেইমার, সেটাই প্রমাণ হয় এর দ্বারা।




