একটা সময় ছিলেন আর্জেন্টিনা দলের সেরা প্রতিভার একজন। লিওনেল মেসি পরবর্তী সময়ে তাকে ভাবা হত আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা।
এমনকি মেসির পরবর্তী নাম্বার টেন হবেন তিনি এমনটাও ভাবা হত। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দিবালা আজ নেই কোথাও
সর্বশেষ আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচ খেলেছেন গত বছর নভেম্বরে৷
চিলির বিপক্ষে ১১ মিনিট খেলে গোলও আদায় করেন তিনি৷ সবাই ভেবেছিল দিবালা ২.০ হয়ে যাবে এবার৷ তবে সেটি আর হয়নি।
বরং এরপর আর দলেই আসেননি দিবালা। একবার ইঞ্জুরির কারণে আসা হয়নি। এরপর আর আসেনি দলেই দিবালা।
তাকে ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি কোচ।
অন্যদের সাথে লড়াইয়ের চেয়েও দিবালার ছিল আরো এক লড়াই। আর সেটা ইঞ্জুরির সাথে লড়াই।
রোমা ও জুভেন্তাসে দিবালা নিয়মিতই পারফর্ম করতেন। কিন্ত একের পর এক ইঞ্জুরি তাকে বারবার রাখত মাঠের বাইরে।
সেই ইঞ্জুরির কারণে নিজের প্রতিভার সেরাটা দিতে পারেননি৷ কিন্ত যতটুকু দিতেন, তাতেই দলের জন্য ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্ত সেই গুরুত্বের জায়গায় আর নেই দিবালা।
এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেই মুল পরিচয় দিবালা। এই জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় এসেছে আর্জেন্টিনা দলে।
কোমোর পাজ, রিয়াল মাদ্রিদের মাস্তানতুনহো বা ম্যানচেস্টার সিটির ইচভেরি, সবাই কেড়েছেন কোচ স্কালোনির নজর।
আর তাতে বাদ পড়া নাম একজনই হলেন, তিনি পাওলো দিবালা। যে কারণে এনহেল ডি মারিয়ার অবসরের পরেও দলে জায়গা নিশ্চিত হলোনা তার।
সর্বশেষ কিছু চেষ্টাও দিবালা করেন। গত আসরে সৌদি ক্লাব আল কাদেশের বার্ষিক ২৭ মিলিয়ন ইউরোর বেতনের প্রস্তাব ছিল তার, যা রোমার বেতনের প্রায় ৮ গুণ।
সেই টাকার অঙ্কও ফিরিয়ে দেন দিবালা। স্কালোনির সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করে চালিয়ে যান ইতালিয়ান ক্লাব রোমায়।
এরপর একবার সুযোগ আসেও, দিবালাও গোল করে কাজে লাগান ৷ কিন্ত আবার পুরান শত্রু ইঞ্জুরি তাকে আবার রাখে দূরে সরিয়ে।
ফলাফল এবার যেন দল থেকে পুরোপুরি নাই হয়ে যাওয়া নাম দিবালা।
দিবালার গল্পটা হবে কষ্টের, আক্ষেপের। একই সাথে নতুন প্রজন্মের জন্য হবে শিক্ষা। যতই প্রতিভাবান হও তুমি, ভাগ্য আর পরিশ্রম তোমার সাথে না থাকলে আন্তজার্তিক পর্যায়ে লিজেন্ড হওয়া বেশ কঠিনতম কাজ তোমার জন্য।
কপাল পোড়া দিবালার এই শিক্ষায় অন্য আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা উপকৃত হোক, অন্তত এটুকুই চাবে দলটির ভক্তরা।




