২ বছর পর জাতীয় দলে ফিরলেন,প্রথম ওভারেই ২ উইকেট তুলে নিলেন।
৪ নম্বরে ব্যাট হাতে নামলেন,দেখেশুনে শুরু করেও ১৮৯ স্ট্রাইক রেটে অপরাজিত রইলেন।
দীর্ঘদিন পর টপ ওয়ার্ডারে খেলার মতো একজন পারফেক্ট অলরাউন্ডার পেলো বাংলাদেশ।
শুধু ঘরোয়া লীগ নয়,সাইফ এবার নিজেকে প্রমান করলেন জাতীয় দলেও…
প্রায় দুই বছর জাতীয় দলে সুযোগের অপেক্ষায় থাকার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে এলেন সাইফ হাসান।
শুধু ফিরেই ক্ষান্ত নন, সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সুযোগ পেয়েছেন একাদশে।
দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর সাধারণত অনেক ক্রিকেটারের মধ্যেই নার্ভাসনেস কাজ করে, কিন্তু সাইফের ক্ষেত্রে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
বল হাতে নেমেই প্রথম ওভারেই শিকার করলেন দুইটি মূল্যবান উইকেট।
তার বোলিংয়ের গল্পটা শুরু হয় ইনিংসের ১০ম ওভারে। চতুর্থ বলটি লেগ স্টাম্পের ওপর ফেলেছিলেন তিনি।
ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস চেষ্টা করেছিলেন প্যাডল সুইপের, কিন্তু ঠিকমতো টাইমিং করতে না পারায় বল চলে যায় লং লেগে।
খানিকটা দৌড়ে এসে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন জাকের আলি আনিক। ফলে মাত্র ৭ বলে ১২ রান করেই ফিরতে হয় এডওয়ার্ডসকে।
সেই একই ওভারে, মাত্র দুই বল পরই ফেরেন তেজা নিদামিনুরু। প্রায় একই ধরনের ডেলিভারিতে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
আউট হওয়ার আগে ২৬ রান করেন এই ব্যাটার। এক ওভারেই দুজন সেট ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দেন সাইফ।
তবে সাইফের আসল ঝলক দেখা যায় ব্যাট হাতে। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতে কিছুটা দেখেশুনে খেললেও শেষের দিকে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর।
মাত্র ১৯ বলে গড়েন অপরাজিত ৩৬ রানের ক্যামিও, যেখানে স্ট্রাইক রেট ছাড়িয়েছে ১৮৯-এরও বেশি।
ইনিংসটি সাজানো ছিল চারটি বাউন্ডারিতে,একটি চার আর তিনটি ছক্কা। স্বল্প সময়ে এই দারুণ ইনিংস বাংলাদেশকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে যায় এবং তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স হয়ে ওঠে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক সময় দেখা গেছে,ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে এসে অনেকেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেন না।
বিজয় বা নাইমদের মতো সুযোগ হারানোর উদাহরণও আছে সামনে।
কিন্তু সাইফ হাসান দেখালেন, সুযোগ পেলে কিভাবে তা দু’হাত ভরে কাজে লাগাতে হয়।
প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই ব্যাটে-বলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
এখন মূল প্রশ্ন এই ধারাবাহিকতা কতটা বজায় রাখতে পারবেন সাইফ।




