একটা ছোট উদাহরণ—নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আগের পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ, তবে সেগুলো ছিল কষ্টার্জিত জয়।
কিন্তু এবার ডাচদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই সহজ জয়ে মাঠ ছাড়ল টাইগাররা।
১৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলেছে দল, বাড়তি ডিফেন্সে যায়নি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও সম্প্রতি ছোট লক্ষ্য তাড়ায় একই ধরনের আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ।
এই বদলে যাওয়া ব্যাটিং ধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে এক নতুন বাংলাদেশের।
এখন সন্দেহ নেই, টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।
বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে এরকম ধারাবাহিকতা আগে দেখা যায়নি।
আর এখানেই আলাদা করে প্রশংসা প্রাপ্য দলের সহকারী কোচ কাজী সালাউদ্দিনের।
সহকারী কোচ হলেও, মূলত ব্যাটিং কোচ হিসেবেই পরিচিত সালাউদ্দিন।
খেলোয়াড়দের বেসিক থেকে শুরু করে ছোট ছোট ভুল ধরিয়ে দেওয়া, ইন্টেন্ট গড়ে তোলা, শট নির্বাচন ও শটের কার্যকারিতা—প্রতিটি জায়গায় তিনি কাজ করেছেন। এর প্রমাণ মাঠেই দেখা যাচ্ছে।
বলা হয়, বিদেশি কোচদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের যোগাযোগে সমস্যা হয়। কিন্তু সালাউদ্দিনের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সেই বাধা নেই।
তারা সহজেই নিজের সমস্যার কথা জানাতে পারেন, আর সালাউদ্দিনও সেসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দেন।
অতীতে সাকিব, তামিমরা যেমন তাঁর শরণাপন্ন হয়েছেন, এখন তরুণরাও পাচ্ছেন একই সুবিধা।
প্রমাণ মেলে জাকের আলী অনিকের উদাহরণে। কুমিল্লার হয়ে খেললেও জাতীয় দলে শুরুর দিকে ধুঁকছিলেন তিনি।
এরপর দায়িত্বে আসেন সালাউদ্দিন। তাঁর হাতে মশলা পেয়ে বদলে যান জাকের—আজ তিনি জাতীয় দলে নিয়মিত পারফর্মার। শুধু জাকের নন, তামিম ইকবাল কিংবা ইমন হোসেনও তাঁর অধীনে লাভবান হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ দলের এই উন্নতির কৃতিত্ব সালাউদ্দিনের ঝুলিতেও যায়। দল হারলে যেমন কোচকে দায় দেওয়া হয়, তেমনি জয়ের কৃতিত্বও তাঁকে দিতে হবে।
তিনি প্রমাণ করেছেন—দেশীয় কোচরাও চাইলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
হয়তো প্রধান কোচ হওয়ার মতো সুযোগ কম মেলে, কিন্তু জাতীয় দলের জন্য যে তাঁরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন, তা দেখিয়েছেন সালাউদ্দিন।




