সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছিল না ভিনিসিয়ুসের, তবে গোলের খরা ছিল। এর মাঝেই জোরালোভাবে উঠেছিল ক্লাব পরিবর্তনের গুঞ্জন।
পাশাপাশি কার্ড জটিলতায় ডাক পাননি ব্রাজিল দলে। এই সবকিছুকেই সমালোচনার হাতিয়ার বানিয়েছিলেন ভিনির সমালোচকরা।
তবে ভিনি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করেছেন— এমনি এমনি এই জায়গায় আসেননি তিনি।
লা লিগার প্রথম ম্যাচে গোল পাননি, দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশেও ছিলেন না। কিন্তু বদলি নামতেই ঝলক দেখান ভিনি।
এমবাপ্পেকে পাস দিয়ে করান এক গোল, এরপর রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে নিজেও করেন গোল।
ফলে ৩-০ গোলের জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
মায়োর্কার বিপক্ষে এবার শুরুর একাদশে জায়গা পান ভিনিসিয়ুস। নেমেই দেখাতে শুরু করেন নিজের জাদু।
শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তার দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রায় ৭২ মিনিট মাঠে থেকে ভিনি খেলেছেন নজরকাড়া ফুটবল।
দিয়েছেন ৩৮টি পাস, সফলতার হার ৮৬ শতাংশ। ২ বার চ্যান্স তৈরি করেছেন, নিয়েছেন ২টি শট, সফল ড্রিবলিং করেছেন ২ বার।
ট্যাকেলও করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে এদিনের পারফরম্যান্সে ভিনিকে বলা যায়— ১০ এ ১০।
ভিনির এই পারফরম্যান্স ব্রাজিল ভক্তদের জন্যও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। গত দুই বছর ধরে নেই দলে নেইমার, কবে ফিরবেন সেটারও নিশ্চয়তা নেই।
ফিরলেও একের পর এক ইনজুরি কাটিয়ে আগের মতো ধারালো হবেন কি না— সেটিও প্রশ্ন।
বাম প্রান্তে নিজের দিনে ভিনি এখন বিশ্বের সেরা উইঙ্গারদের একজন। দারুণ সব ডিফেন্ডারকেও তার সামনে অসহায় হতে দেখা গেছে।
তাই আনচেলত্তির দলে ভিনিসিয়ুসের ভূমিকা বিশাল। ব্রাজিল ভক্তরা চাইবেন না, এই সময় তাদের সেরা উইঙ্গার থাকুক অফফর্মে।
এর আগে ভিনিকে ভরসা করে বড় টুর্নামেন্ট জিতিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি, এবার ব্রাজিল দলেও সেটাই করতে চাইবেন এই ইতালিয়ান কোচ।
অন্যদিকে, ভিনির এই ফর্ম সমালোচকদেরও দিচ্ছে জবাব। সামান্য ব্যর্থতাতেই অনেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন সমালোচনায়।
সেই চাপ থেকে বের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করা সহজ নয়। তবে ভিনিসিয়ুস জীবনের অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন, ফিরে আসতে জানেন তিনি।
আর সেই জানা থেকেই ভিনি এগিয়ে যাবেন সবাইকে চুপ করিয়ে— এটাই এখন সেলেসাও ভক্তদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।




