লিটন দাসের হাতে যেন আছে এক জাদুর কাঠি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বদলে গেছে নতুন রূপে।
যে দলটি একসময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুর্বল বলে পরিচিত ছিল, সেই দলই এখন আত্মবিশ্বাসে ভর করে টানা তিনটি সিরিজ জিতেছে লিটনের নেতৃত্বে।
যদি প্রশ্ন করা হয়,বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ফিফটি কে হাকিয়েছেন টি-টোয়েন্টিতে?
উত্তর লিটন দাস,সবচেয়ে দ্রুততম ১ হজার ও ২ হাজার রানের মালিকও তিনি।
উইনিং ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ফিফটি হাকিয়েছেন লিটন দাস,তবে খেলোয়াড় নয়,ক্যাপ্টেন লিটন দাস কেমন গুনের?
উত্তরটা পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়,পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়াশ হবার পর,নিজের খারাপ সময়ে দলের অধিনায়কত্ব পান লিটন,আর তাতেই বাজিমাত।
অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বোলারদের দুর্দান্ত ব্যবহার।
প্রতিপক্ষের উইকেট নেওয়ার সঠিক সময়ে সঠিক বোলারকে আক্রমণে আনা কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী ফিল্ডিং সাজানো,প্রতিটি জায়গাতেই তার তীক্ষ্ণ ক্রিকেটীয় মেধার প্রকাশ ঘটেছে।
শুধু তাই নয়, তার ফিল্ডিং প্লেসমেন্ট বারবার প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে। মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সতীর্থদের মধ্যে সর্বোচ্চটা বের করে আনার মানসিকতা তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে টানা তিনটি সিরিজ জয়ের ঘটনা এর আগে ঘটেছে মাত্র দু’বার।
প্রথমবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে, দ্বিতীয়বার সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে।
তবে লিটনের কৃতিত্ব হলো,তিনি শুধু ঘরের মাঠেই নয়, বিদেশের মাঠেও একই ধারাবাহিকতায় সাফল্য এনে দিচ্ছেন। ফলে তার অর্জন স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে।
এখন তাই প্রশ্ন উঠছে, টি-টোয়েন্টিতে লিটন দাস কি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা অধিনায়ক হয়ে উঠছেন?
তার পরিসংখ্যান এবং মাঠের ভেতরের দৃঢ় নেতৃত্ব সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করছে।
সতীর্থরা যেমন তাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন, তেমনি দর্শক ও বিশ্লেষকরাও মনে করছেন বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে লিটনের হাতে।
লিটনের এই ধারাবাহিকতা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে নিঃসন্দেহে তিনি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা অধিনায়ক হিসেবেই জায়গা করে নেবেন।




