“যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
বাইবো না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা-কেনা, মিটিয়ে দেব লেনা-দেনা
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে “
রবী ঠাকুরের এই গান যেন হৃদয়ে বাজছে মেসির।নক্ষত্রেরও পতন হয়,কলিরা ফুল হয়ে ঝরে যায়!
তেমনি, কিছুদিন পর ফুটবলকে বিদায় জানাবে মেসি। তবে তার আগেই জাতীয় দলের হয়ে দেশের মাটিতে ভোরে শেষবার মাঠে নামছেন তিনি।
অর্থাৎ দু পায়ের রঙিন শিল্পে আর্জেন্টিনার সুবুজ গালিচা মাতাবেন না আর!
মেসি নামক নেশায় যেসব প্রানী, নেশা করে বুধ হয়ে আছে,তাদের এই খেলার জগৎটা কি আর স্বাভাবিক থাকবে?
কোটি ভক্ত,যারা মেসির বিরুদ্ধে কথা উঠলে লড়াই করেন,কোটি ফুটবল প্রেমি যারা মেসির উপহাসে তর্ক করেন!
তাদের সময়টা কেমন হবে?
লিওর পায়ের জাদু দেখার জন্য আর্জেন্টিনার মাটিতে আসা হবে না আর!জাদুকরী ড্রীবলিংয়ে মাতবে না মন।
যদিও এই বিদায়টা শুধুই আর্জেন্টিনার দেশের মাটি থেকে,তবে ফুটবলটা আরো কিছুদিন খেলবেন মেসি।এরপর।২০২৬ বিশ্বকাপের পরই বিদায় নিবেন,
ফুটবলটা ঠিক কেমন হবে তখন?
হয়তো কোনো টকশোতে হুটহাট কোনো মন্তব্যে হবেন শিরোনাম,
আর মাঠের ঐ আয়তো সীমনায় আসবে নতুন নতুন নাম!
সবুজ গালিচায় ছেয়ে যাবে নয়া নয়া সুপারস্টার, কেও স্টার কেওবা ইয়ংস্টার!
কিন্তু শত রাত জাগার কারনটি কি বারন হবে না, মেসির বিদায়ে?
তারকাদেরও পতন হয়,কলিরা ফুল হয়ে ঝরে যায়! অতীতে রোনালদো রোনালদিনহো কিংবা পেলে ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে বর্তমানের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো! সব তারকারা ধীরে ধীরে জমিন ছুয়েছে! কেহই হুট করে পরে যায়নি বা ঝড়ে পরেনি!
কিন্তু বয়সের সংখ্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেসি যেভাবে এখনো ফুটবল বিশ্ব শাষন করছে,সেখান থেকে যদি হুট করে বিদায় নেন,তাহলে আক্ষেপটা কি বুকে ব্যাথার কারন হবে না?
দেড় জুগের ক্যারিয়ারে আকাসী সাদা জার্সিটাকে এতো কিছু দিয়েছেন মেসি,যা তাকে করেছে একজন খেলোয়াড়ের চেয়েও বেশি।
ছোট বেলায় হরমোন সমস্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেসি নামক ছেলিটা ছুটেছিলো দুরন্ত গতিতে!
সে গতি আর থামেনি,বয়সের সাথে গতি বেড়েছে সমানুপাতে,তবে বয়সটা যখন নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার,তখন লিও মনে করছেন তার সময় হয়েছে বিদায় নেওয়ার! বয়সের দিকে তাকিয়ে কখনো বলছেন এটিই শেষ বিশ্বকাপ,আবার নিজের ফর্মের দিকে তাকিয়ে বলছেন কি হয় দেখা যাক!
তবে ভোরে যে জাতীয় দলের হয়ে শেষবার নিজ জন্মভূমি আর্জেন্টিনার মাটিতে মাঠে নামলেন মেসি তাতে নেই কোনো সন্দেহ, কেননা ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে বিদায় আয়োজন।
বাংলা জানলে তারাও হয়তো বলে ফেলতো “যেতে নাহি দিবো হায়,তবু যেতে দিতে হয়!”




