৩৮ ছাড়িয়ে বয়স যাচ্ছে ৩৯ এর দিকে। এই বয়সে অনেকেই অবসর নেন, অনেকে কোচিং করান।
সেখানে লিওনেল মেসি যা করছেন, সেটা তো সবার কাছেই নজির হয়ে থাকবে। মেসি বলেই এমন কিছু সম্ভব, সেটাই বলেন অনেকে। তবে এবার আরো এক জিনিস আসলো নজরে, আর সেটা মেসির দুর্দান্ত ফিটনেসে।
ক্যারিয়ারে অন্য অনেক বিষয়ে প্রশংসা পেলেও এই বিষয়টা তেমন ভাবে হয়না আলোচিত।
এমএলএসের এই মৌসুমের গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেছেন। সেখানে ২৬ গোল করে হয়েছেন আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যেখানে তার চেয়ে ২ গোল কম ডেনিস বউগানার। এসিস্টে লিওনেল মেসি আছেন দুই নাম্বারে।
তার চেয়ে মাত্র এক এসিস্ট বেশি সান দিয়াগোর আন্দ্রেস ড্রেয়ারারের৷ অবশ্য ড্রেয়ারের চেয়ে আসরে ৬ ম্যাচ কম খেলেছেন মেসি, বউগানার থেকে খেলেছেন ৩ ম্যাচ কম। পুরো মৌসুম খেললে গোল ও এসিস্টে এককভাবেই শীর্ষে থাকতেন মেসি, এটা অনেকটা অনুমান করাই যায়।
সর্বশেষ ম্যাচেও পেয়েছেন হ্যাট্রিক গোল এসিস্ট। ২ গোলের সাথে পেয়েছেন এক এসিস্ট।
আর তাতেই বড় জয় পায় তার দল ইন্টার মায়ামি। সেখানে তারা ৪-০ গোলে হারায় আটলান্টা ইউনাইটেডকে। পুরো মৌসুমে মেসি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন কোন পেনাল্টি না নিয়েই। এতকিছুর পরও আপনি বলতে পারেন, মেসির জন্য এ আর এমনকি। মেসি ফুটবলে পারেন না এমন কিছু বোধহয় নেই।
তবে এতকিছু উল্লেখের আরো এক কারণ আছে, সেটা মেসির পারফর্মেঞ্চ নয়, তার ফিটনেস।
এমএলএসে এই অক্টোবরেই ৩ ম্যাচ খেলেন মেসি। এর মাঝেই আসে আর্জেন্টিনা দলে ডাক। সেখানে মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনা দলের শুরুর ম্যাচে ছিলেন না মেসি। তবে পুয়ের্তা রিকোর বিপক্ষে ম্যাচে নিজেকে এভেইলেবল করেন মেসি। যেখানে ১০ তারিখ ম্যাচ খেলে সবাই প্রস্তত হচ্ছিলেন ১৫ তারিখের ম্যাচের জন্য, সেখানে ১২ তারিখ ম্যাচ খেলেই ১৫ ম্যাচে ফোকাস মেসির। সেটিও আবার দুটি আলাদা দলের হয়ে।
১২ তারিখ মায়ামির হয়ে ম্যাচ শেষ করেই একদিন পর আবারো অনুশীলনে মেসি। সেটি আবার আর্জেন্টিনার হয়ে।
১৫ তারিখ ম্যাচকে ঘিরে এবার প্রস্ততি তার। অর্থ্যাৎ ১২ তারিখ ম্যাচ খেলেছেন, পারফর্ম করেছেন। এরপর ১৩ তারিখ অনুশীলন করেছেন ১৫ তারিখের ম্যাচের জন্য। এই বয়সেও মেসির এমন ফিটনেস সবাইকে অবাক করেছে।
ক্যারিয়ারে অনেক কিছুর জন্য প্রশংসা জুটলেও ফিটনেস নিয়ে বরাবরই আন্ডাররেটেড থেকেছেন মেসি।
অথচ ডিফেন্ডারদের ফাউলের টার্গেট হয়েও মেসি যেভাবে ইঞ্জুরিমুক্ত থেকেছেন, যেভাবে মৌসুমের পর মৌসুম খেলেছেন, তাতে প্রমাণ করে ফিটনেসে যথেষ্ট মনযোগী ছিলেন মেসি। আর সেটাই প্রমাণ হলো আরো একবার।




