আর্জেন্টিনার ফুটবলে নেমে এসেছে বিতর্কের ঝড়। এক রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে তোলপাড় গোটা দেশ।
আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় রেফারিদের একজন, নিকোলাস লামোলিনা, হঠাৎই সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন-এর সিদ্ধান্তে। কারণ তিনি লাল কার্ড দেখিয়েছেন এমন একজনকে, যিনি দেশের ফুটবল প্রশাসনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে।
ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনা প্রিমেরা ডিভিশনের একটি ম্যাচে, যেখানে মুখোমুখি হয় বোকা জুনিয়র্স ও বাররাকাস সেন্ট্রাল।
সোমবারের সেই ম্যাচে প্রথম থেকেই উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় লামোলিনা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে বাররাকাস সেন্ট্রালের অধিনায়ক ইভান তাপিয়েকে মাঠের বাইরে পাঠান।
ইভান তাপিয়ে কোনো সাধারণ খেলোয়াড় নন,আছে অন্য পরিচয়।তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ের ছেলে।
রেফারির এই সিদ্ধান্তের পরপরই মাঠে ও দর্শকসারিতে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।
বাররাকাসকে ১০ জনের দলে নামিয়ে আনে সিদ্ধান্তটি, যা ম্যাচের গতিপথকেও পাল্টে দেয়। বোকা জুনিয়র্স শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রেফারি নিকোলাস লামোলিনা।
সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো,ঘটনার মাত্র দুদিন পরই লামোলিনাকে বরখাস্ত করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, পরের ম্যাচে তার পারফরম্যান্স “সন্তোষজনক নয়” বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমের দাবি, এটি শুধুই অজুহাত। আসল কারণ হলো, তিনি এএফএ সভাপতির ছেলেকে লাল কার্ড দেখানোর সাহস দেখিয়েছিলেন।
দেশটির ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা বলছেন, এটি আর্জেন্টাইন ফুটবলে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
রেফারির সিদ্ধান্তে যদি প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়, তাহলে খেলার মাঠে নিরপেক্ষতা কোথায়? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা,অনেকে বলছেন, “যেখানে সভাপতির ছেলেকে ছোঁয়া যায় না, সেখানে ন্যায়ের আশা করা অর্থহীন।”
সব মিলিয়ে, একটি লাল কার্ড এখন পুরো আর্জেন্টাইন ফুটবলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রেফারিদের স্বাধীনতা, প্রশাসনের প্রভাব এবং খেলার সততা,সবকিছু নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, যার জবাব এখনো দেয়নি এএফএ।




