ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মাঠে পা রাখার পর থেকেই যেন নতুন করে ফুটবল-গ্রহের নিয়ম বদলে দিচ্ছেন লিওনেল মেসি।
আরেকবার তা প্রমাণিত হলো সিনসিনাটির বিপক্ষে প্লে-অফ ম্যাচে, যেখানে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার একাই বদলে দেন ম্যাচের রং।
১ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টে জড়িত থেকে দলকে এনে দেন ৪-০ গোলের দারুণ জয়, যা ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমএলএস ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনাল নিশ্চিত করার পথও তৈরি করে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আলো কেড়ে নেন মেসি। নিখুঁত হেডে ম্যাচের প্রথম গোলটি করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য তৈরি করেন একের পর এক গোলের সুযোগ। পুরো ম্যাচ জুড়েই তার উপস্থিতি ছিল আধিপত্য বিস্তারকারী,৮টি চ্যান্স ক্রিয়েশন, ৪টি বিগ চ্যান্স, ৭টি ফাইনাল থার্ডে পাস, দুই ড্রিবল সফল, সঙ্গে ১০০ শতাংশ সফল ক্রস ও লং বল। রক্ষণের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে ছিলেন না; জিতেছেন নিজের সবগুলো ট্যাকল।
৬৪টি টাচ ও ৪১টি সঠিক পাসে আবারও প্রমাণ হলো,মেসি শুধু গোলদাতা নন, সম্পূর্ণ একজন প্লেমেকার।
কিন্তু এই ম্যাচের আসল ইতিহাস লেখা হয়েছে আরও বড় এক মাইলফলক দিয়ে,মেসি ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের ১,৩০০ গোল-অ্যাসিস্ট অবদান। বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২ গোল ও ২৬৯ অ্যাসিস্ট, পিএসজিতে ৩২ গোল ও ৩৪ অ্যাসিস্ট, ইন্টার মায়ামিতে ৭৮ গোল ও ৩৯ অ্যাসিস্ট, আর আর্জেন্টিনার হয়ে ১১৪ গোল ও ৬২ অ্যাসিস্ট।সব মিলিয়ে ফুটবলে আর কেউ এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।
একই সময়ে তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৯৫৪ গোল ও ২৫৯ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে আছেন ১,২১৩ গোল-অ্যাসিস্টে; যা মেসির চেয়ে ৮৭ কম। তাছাড়া রোনালদোর যেখানে লেগেছে ১,২৯৮ ম্যাচ, সেখানে মেসির ১,৩০০ অবদান এসেছে মাত্র ১,১৩৫ ম্যাচে।
লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের বর্তমান সংখ্যাগুলো আরও অবাক করার মতো, ৮৯৬ গোল, ৪০৪ অ্যাসিস্ট অর্থাৎ ১৩০০ গোল-অ্যাসিস্ট।
আর তাতে ৪৬টি ট্রফি, ৮ ব্যালন ডি’অর, ৬ গোল্ডেন বুট, এক বছরে ৯১ গোলের রেকর্ড, আর ৪,০১৫টি সফল ড্রিবল। এ বয়সেও এমন নজিরবিহীন আধিপত্য,তাই প্রশ্নই জাগে, মেসি কি সত্যিই মানুষ, নাকি ফুটবলের কোনো ভিনগ্রহী বিস্ময়?




