৯৪ মিনিটে সমতাসুচক গোল। সেটাও প্রিমিয়ার লীগের তারকাবহুল দল নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের বিপক্ষে।
এতটুকই ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে স্মরণ করানোর জন্য যথেষ্ট ভক্তদের।
কিন্ত সেই গোল রোমেরো করলেন অবিশ্বাস্যভাবে, এক অভারহেড কিকের মাধ্যমে। একজন ডিফেন্ডার হয়েও যে কাজটা সুনিপুণ ভাবে করেছেন রোমেরো, যাতে হার মানতে হয়েছে নিউক্যাসেলকে।
গোলের শুরু থেকে শুরু করা যাক। বামদিক থেকে কর্নার নেন টটেনহ্যামের এন্থনি এলেঙ্গা।
এলেঙ্গার কর্নার আসে ইনসুইং, সেটা চলে যায় নিউক্যাসেলের গোলরক্ষক এরন রামসডেলের কাছে৷ সেই শট ফিরিয়ে দেন তিনি।
অপরদিকে ডিবক্সে তখন ছিল রোমেরো। তবে বল রিসিভ করতে পারেননি, উলটো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান।
তবে তখনও মনযোগ ছিল রোমেরোর। তিনি দেখতে পান শট স্টপ হলেও বল ক্লিয়ার হয়নি পুরোপুরি ।
তাই তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিয়ে ছুটে যান বলের দিকে। কর্নারের কারণে ডিবক্সের ভিতর দুই দলের খেলোয়াড়দের ভীর।
এর সাথে বিপরীতমুখী রোমেরো। বল রিসিভ করে শট করতে গেলে ব্লক হবার সম্ভাবনা তো থাকবেই, প্রেস ও ট্যাকেলের মুখোমুখি হয়ে বল হারাবার সম্ভাবনাও থাকবে বেশি। অপরদিকে ম্যাচ শেষ হতে বাকি মাত্র ৪ মিনিট।
তড়িঘড়ি করেই সেরা সিদ্ধান্ত নিলেন রোমেরো। বুঝিয়ে দিলেন কেন তার ফুটবল ব্রেইন এতটা শার্প।
লাফিয়ে উঠে ওভারহেড কিক করলেন, নিচুতে থাকা বলে লাফিয়ে উঠে করলেন শট।
রোমেরো জানেন জোড়ে মারলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবার চাঞ্চ থাকবে, আবার কারো গায়ে লেগেও আসতে পারে ফেরত।
সে বলটাই অনেকের মাঝ দিয়ে গেলো দারুণ ভাবে। আপনি বলতে পারেন একাধিক নিউক্যাসেল খেলোয়াড় সেটা ভালোভাবে ক্লিয়ার করতে পারেননি।
তবে ওভারহেড কিকের ম্যাজিকটাই এখানেই। তাৎক্ষণিকভাবে বলের দিক বুঝা যায়না, একই সাথে বলের গতি ও উচ্চতা সম্পর্কে আইডিয়া করা যায়না।
যে কারণে বুঝে উঠার চেষ্টা করেও বল ফেরাতে ব্যার্থ নিউক্যাসেল ডিফেন্ডার।
রামসডেলেও যখন বুঝলেন, ততক্ষণে দেড়ি হয়ে গেছে। বল চলে গেছে জালে।
উজ্জাপনে এরপর গিমারেজকে যেন টক্কর দিলেন রোমেরো, যিনি গোল করে দুই হাত কানে তুলে করেন উজ্জাপন।
একই সাথে ডিফেন্ডার হয়ে জোড়া গোল করলেন, অভারহেড কিকে সমতাসুচক গোল করলেন। মঙ্গলবার রাতে রোমেরো করেছেন সম্ভাব্য সবকিছুই।
আর্জেন্টাইন এই সেন্টার ব্যাক জ্বলে উঠলে কি করতে পারেন, সেটার স্বাক্ষরই যেন এদিন রাখলেন আরো একবার। এই রোমেরোর উপর তাই প্রত্যাশা রাখতে বাধ্যই ভক্তরা।




