গত মৌসুমে এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনা জয় পায় ৪ ম্যাচেই। অথচ এই মৌসুমে ছন্দহীন রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যায় তারা।
বার্সা দলে সবাই ছিলেন, ইয়ামাল, পেদ্রিরা ছিলেন, তবে ছিলেন না একজন। তিনি রাফিনহা।
সেই রাফিনহাকে নিয়ে আবারো ঘুরে দাড়ালো বার্সেলোনা। পিছিয়ে পড়েও এথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সার জয় ৩-১ গোলে।
দলে ফিরে কি খালি গোল এসিস্টই করেন রাফিনহা, যে কারণে বদলে যায় দল?
হ্যা রাফিনহা দলের প্রোফাইলিক স্কোরার, ফিনিশিংএ অন্যদের চেয়ে এগিয়ে তিনি। গত মৌসুমে তো গোল এসিস্টে ছিলেন সবার চেয়ে এগিয়ে।
এটাকিং মিডফিল্ডার হোক, লেফট উইঙ বা রাইট উইঙ, রাফা গোল করতে সিদ্ধহস্ত, সমানতালে করতে পারেন এসিস্ট।
যে কারণে প্রাথমিকভাবে রাফিনহার থাকা এগিয়ে রাখে বার্সেলোনা।
তবে এটাই একমাত্র কারণ না, আরো অনেক কারণে রাফিনহা ফেরায় এগিয়ে থাকে দল। বর্তমানে বার্সেলোনা দলের অধিনায়ক রাফিনহা।
দলের অন্য দুই অধিনায়ক টের স্টেগান ও রোনাল্ড আরাউহো। তবে এই দুইজনই আছেন অফফর্মে।
একই সাথে নিজেদের নানা ভুলে বারবার হারতে হয় ম্যাচ। অধিনায়ক এমন ভুল করলে অন্য খেলোয়াড়রাও মানসিকভাবে ভেঙে যান, ফলে ভালো অবস্থানে থাকলেও ম্যাচ হারে বার্সেলোনা।
তবে ব্যাতিক্রম রাফিনহার ক্ষেত্রে, রাফিনহা পারফর্ম করেন, নিবেদন দেখান, আবার সবাইকে আগলে রাখেন। ফলে যেন বদলে যায় বার্সেলোনা দলের চিত্রই।
রাফিনহার থাকা প্রভাব ফেলে প্রতিপক্ষের প্লানেও। রাফা না থাকলে এক ইয়ামাল কেন্দ্রিক হয় বার্সেলোনার আক্রমণ।
ডানদিকে তাকে ঘিরে ফিরতে পারলেই বার্সেলোনার ধার কমে যায়। ফলে রাফিনহা না থাকলে ইয়ামাল যেমন ব্যার্থ হন, বার্সা দলও ভুগে আক্রমণে।
রাফিনহা থাকলে ইয়ামালের মত তিনিও হয়ে যান থ্রেট। ইয়ামালকে পাহাড়ায় রাখলে তিনি পান স্পেস, যা কাজে লাগিয়ে গোল এসিস্ট করার দক্ষতা আছে তার। যে কারণে ডিফেন্স দক্ষ দলও ভুগতে হয় আক্রমণে।
শুধু আক্রমণে নয়, ডিফেন্সেও রাফিনহা সহযোগীতা করেন। তিনি ট্রাকব্যাক করেন, হার্ডওয়ার্ক করেন মাঠে। যা বার্সেলোনার কিছুটা ধীরগতির সেন্টার ব্যাকদের বড় ম্যাচে সাহায্য করে। তবে অন্য উইঙ্গাররা এই জায়গায় দুর্বল, যে কারণে কাউন্টারে, হাই বলে অনেক সময় গোল হজম করতে দেখা যায় বার্সেলোনাকে।
সব মিলিয়ে রাফিনহার থাকা না থাকা বিস্তর ফারাক করে দেয় বার্সা দলে। যে কারণেই এই মুহুর্তে বিশ্বের সেরাদের একজন তিনি, বার্সেলোনার দলের নেতা। বিশ্বকাপেও এমন ফর্মের রাফিনহাকে চাইবে সেলেসাও ভক্তরা।




