প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের মঞ্চে হাইতি দল। বিশ্বকাপে এসে ব্রাজিলের মত দলের বিপক্ষে খেলার হাতছানি তাদের।
কনকাফের কোয়ালিফিকেশন পার করা আসা দেশটি পৃথিবীর অন্যতম দারিদ্র দেশগুলোর মাঝে অন্যতম।
অথচ এবারের বিশ্বকাপের অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই এই দেশটি পেতে যাচ্ছে নুন্যতম ১২৭ কোটি টাকা। নিসন্দেহে হাইতির মত দেশের জন্য বিশ্বকাপ খেলতে পারা শুধু সম্মানজনকই হবে, অর্থনৈতিকভাবেও হবে লাভজনক।
সেই লাভের কথা বিবেচনা করেই এবার বিশ্বকাপের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছে ফিফা। যেখানে সবমিলিয়ে বাজেটের মুল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা। ফিফার হিসেবে এবারের বিশ্বকাপের বাজেট ধরা হয়েছে ৭২৭ মিলিয়ন ডলার।
যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। গত কাতার বিশ্বকাপ বাজেটে ছাড়িয়ে গেছিল সবাইকে। সেই কাতার বিশ্বকাপ থেকেও এবারের বিশ্বকাপে খরচ হবে ৫০ ভাগ বেশি।
যে খরচের সিংহভাগই যাবে প্রাইজমানিতে। যেখানে মোট অঙ্কের অর্থ পাবে বিশ্বকাপে আসা প্রতিটি দল। গত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা দল। তার আগে বিশ্বকাপে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এবার যেই দল এমন মর্যাদা অর্জন করতে পারবে, তারা পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশের টাকায় ৬০৯ কোটি টাকা।
বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে হারলেও আছে বড় অঙ্কের প্রাইসমানি। সেখানে মোট ৩৩ মিলিয়ন ডলার পাবে দলগুলো।
বাংলাদেশের টাকায় যা ৪০২ কোটি টাকা। ৪৮ দলের লড়াইয়ে যারা যাবে বিশ্বকাপের শেষ চারে, তারা পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের টাকায় ৩৫৫ কোটি টাকা। গত আসরে চমক দিয়ে সেমিফাইনালে যায় মরোক্কো।
এরকম যদি কোন দল দিতে পারে চমক, তারাও নিজেদের ফুটবল উন্নয়নে বড় অর্থই পাবে।
শেষ আটে যদি থেমে যায় কোন দলের যাত্রা, তাদের পকেটেও ঢুকবে ১৯ মিলিয়ন ডলার বা ২৩১ কোটি টাকা।
টাকার পরিমাণ ১৮২ কোটি হবে, যদি কোন দল যেতে পারে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ তে। এক্ষেত্রে এশিয়ান অথবা ইউরোপের মাঝারি মানের দলগুলোর নজর থাকবে এই শেষ ১৬ এর দিকে।
যদি গ্রুপ পর্বে পার করতে পারে কোন দল, তবে তারা পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার বা ১৩৪ কোটি টাকা।
যদি শেষ ৩২ এও যেতে না পারে, গ্রুপ পর্বেও বিদায় নেয়, এমনকি হেরে যায় সবগুলো ম্যাচেই, তবুও থাকছে মোটা অঙ্কের অর্থ। সেক্ষেত্রে ৯ মিলিয়ন ডলার পাবে তারা। যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ১০৯ কোটি টাকা।
কিন্ত এখানেই থেমে থাকছেনা ফিফা। বিশ্বকাপের আগেই প্রত্যেক দলের একাউন্টে ঢুকবে ১.৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৮ কোটি টাকা।
অর্থ্যাৎ বিশ্বকাপে অংশ নিলেই তুমি পাবে নুন্যতম ১২৭ কোটি টাকা। এরপর সং্খ্যাটা ৬২৭ কোটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে প্রত্যেক দলের।
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে ফিফা সব দলকে দুই হাতেই দিয়েছে। এবার সেখানে নিজেদের যোগ্যতা অনুসারে সম্মানের সাথে অর্থ বুঝে পাওয়ার লড়াই সব দলের।




