রিয়াল মাদ্রিদের শেষ কয়েক বছরের সাফল্যে বড় মুখ ধরা হয়েছিল তাকে। কার্লো আনচেলত্তিকে ধরা হয়েছিল ম্যান ম্যানেজমেন্ট কোচ।
কিন্ত কৌশল থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল নানা বিষয়ে তার পুত্র ডেভিড আনচেলত্তির দিকেই ছিল নজর। সেই কাজে ডেভিড প্রশংসাও কুড়ান বেশ।
যে কারণে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর ডেভিডের আসে অনেক প্রস্তাব।
আর সেখানে বাবার সহকারীর দায়িত্ব ছেড়ে ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাবে কোচিং শুরু করেন ডেভিড আনচেলত্তি।
কিন্ত সেই শুরুতেই যেন গন্ডগোল বাধলো তার। টিকতে পারলেন না অর্ধ বছরও।
কিছুদিন আগেই শেষ হলো ব্রাজিলের সিরিআ এর মৌসুম। আর সেটা শেষ হবার সাথে সাথেই যেন পেয়ে গেলেন টার্মিনেশন লেটার।
গত জুলাই মাসে ক্লাব বিশ্বকাপে ভালো না করার কারণ দেখিয়ে বরখাস্ত করা হয় বোটাফিগোর সাবেক কোচ রেনেতো পাইভাকে। যদিও সে আসরে বোটাফিগো হারায় পিএসজির মত দলকে। এর আগের মৌসুমে লীগ ও কোপা লিপার্তোদেসের শিরোপা যায় বোটাফিগোর কাছে।
আর সেখানেই পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে ডেভিড যোগ দেন বোটাফিগোতে। কিন্ত এই মৌসুমে যেন একদমই ভালো করতে পারেননি তিনি৷
১৬ পয়েন্ট দূরে লীগে ৬ থেকে শেষ করে বোটাফিগো। এমনকি লাতিনের চ্যাম্পিয়নস লীগ খ্যাত কোপা লিপার্তোদেসে বিদায় নেয় শেষ ১৬ তে৷ নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে অর্ধেক ম্যাচেও জয় পাননি ডেভিড।
৩৩ ম্যাচে জিতেছেন ১৫ টিতে, ১০ ড্র এর সাথে ছিল ৮ হার। এমন পারফর্মেঞ্চে তাই চাকরি থেকে বিদায়ই জুটলো তার।
অবশ্য ডেভিডকে বড় আকারে দায়ী করার সুযোগ নেই। গত আসরে বোটাফিগোকে শিরোপাজয়ে ভুমিকা রাখা বড় বড় সব তারকারা ক্লাব ছেড়েছেন।
আলমাদা গিয়েছেন এথলেটিকো মাদ্রিদে, ভিক্টোর, জাইর কুনহা, ইগর জেসুসরা গেছেন নটিংহ্যাম ফরেস্টে৷ জুনিয়ার সান্তোস ক্লাব ছেড়েছেন, লুইজ হেনরিকের মত উইঙ্গার গেছেন রাশিয়ায়। ফলে নতুন এক দল নিয়েই লড়াই করতে হয়েছে তাকে।
এরপরও প্রত্যাশিত রেজাল্ট না আসায় পেতে হলো বড় শাস্তি। এটাই যেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের রীতি। পরিস্থিতি যাই হোক, সর্বদা আনতে হবে ভালো ফলাফল।
কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে এই শিক্ষা ডেভিডের পরবর্তী জীবনে হয়ত কাজে লাগবে। তবে এখন ডেভিড কি করবেন সেটা নিশ্চিত নয় কারো।
হয়ত আবারো বাবার সাথে এসে ব্রাজিলের হাল ধরবেন, ব্রাজিলের ফুটবলকে আরো ভালোভাবে জেনে এরপর পাড়ি জমাবেন বড় ফুটবল দলের হাল ধরতে।




