বয়সটা ৩৮, তবে যেভাবে খেললেন মনে হলো যেন ২৫ বছরের তরুণ। উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে ফিটনেস নিয়ে সচেতন থাকেননা অনেকেই, সেখানেই ব্যাতিক্রম মুশফিক।
পরিশ্রমের সাথে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভরসা, সেটাই মুশফিককে এনেছে আজকের অবস্থানে।
রাজশাহীর মুশফিক তাই শুরুর ম্যাচে দেখালেন তার অভিজ্ঞতার মুল্য।
রাজশাহীর হয়ে ৩১ বলে ৫১ রান করেন, ৪ চারের সাথে হাকান এক ছক্কা। ধীরে ধীরে শুরু করেন, এরপর বল বুঝে করেন চার্জ।
শেষ ১১ অভারে করেছেন ১২৬ রান, বোলার বুঝে হাকিয়েছেন সব শট। সুইপ, রিভার্স, কাট সব খেলেছেন দুর্দান্তভাবে।
কখনও অভারহিট করতে যাননি। মিরাজকে হাকিয়েছেন ফিল্ডিং সেটাপ দেখে।
আবার আমিরের ফুলটস বলে কাট খেলেছেন দুর্দান্তভাবে, শেষে কাট খেলেও ফিনিশ করেছেন চাপের মুহুর্তে।
চারে নেমেছেন, ফিফটির সাথে ম্যাচ ফিনিশিং করেই ছেড়েছেন মাঠ। বাউন্ডারি হাকিয়েছেন, সমান তালে স্ট্রাইক রোটেশন করেছেন।
সিঙ্গেল, ডাবলস এমনকি ৩ রানও নিয়েছেন এই ব্যাটার৷
এরপর কান বন্ধ করে জানান দিলেন, কারো সমালোচনা শুনছেন না মুশফিক। এই মুশফিককে নিলামে প্রথম কিনেনি কোন দল।
এরপর নিজ মুশফিক সেটা নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ লিখে পোষ্ট করেন। এরপর শেষে তাকে দলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ।
সেখানে সুযোগ পেয়ে প্রতিদান দেন মুশফিক।
মুশির সফলতার রহস্য কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়। যে কারণে এখনও যেখানেই খেলেন মুশফিক, পারফর্ম করেন সমানতালে।
এই বয়সেও মুশফিকের আগের পারফর্মেঞ্চ আছে, যেখানেই যান ভরসা যান মুশি।
অধ্যাবসয়েএ সাথে ধর্মভীরুও মুশফিকুর রহিম। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, অনুসরণ করেন ধর্মীয় বিধি বিধান।
যে কারণে মাঠের পারফর্মেঞ্চে ছাড়া মাঠের বাইরের বিতর্কে দেখা যায়নি মুশির নাম। পরিছন্ন জীবন যাপন করেন মুশফিক, এর সাথে কঠোর অনুশীলন। যে কারণে ক্যারিয়ারের ২০ বছর হলেও আজও সবার সেরা মুশি, নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।
মুশফিক অন্যদেরকে দেখালেন, সমালোচনার জবাব এভাবেই দিতে হয়। পারফর্ম করেই সবার কাছে পৌছাতে হয় বার্তা।
মুশফিকের ব্যাটই মুশফিকের মুখ, সেটাই মুশির ঢাল। যে কারণেই বাংলার ক্রিকেটের লিজেন্ডের নাম মুশফিকুর রহিম।




