লিওনেল মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার, তর্কসাপেক্ষে সেরাদের সেরা। তবে ফুটবলের আঙ্গিকেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি।
নিজের ব্রান্ডিং কাজে লাগিয়েছেন, মাঠের বাইরেও আছে তার অর্থনৈতিক উৎস। বিভিন্ন ম্যাগাজিনের মতে সেখান তার মোট বাৎসরিক আয় তার মাঠের ফুটবলের বাৎসরিক আয়ের চেয়েও বেশি। কিন্ত কোন কোন উৎস থেকে এত আয় করেন মেসি?
মেসির স্পন্সর আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ আসে জার্মান ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস থেকে।
শৈশব থেকেই অ্যাডিডাসের সঙ্গে যুক্ত মেসি। ২০০৬ সালে মেসি জুটি করে এডিডাসের সাথে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি তাঁর সঙ্গে আজীবন চুক্তি করে, যা ক্রীড়া বিপণনের ইতিহাসে অন্যতম বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত।
শুধু এই একটি চুক্তি থেকেই প্রতিবছর তিনি কয়েক শত কোটি টাকা আয় করেন।
অ্যাডিডাস ছাড়াও মেসির সঙ্গে যুক্ত আছে একাধিক বৈশ্বিক ব্র্যান্ড।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জনপ্রিয় ড্রিংক্স কোম্পানি পেপসি, বিয়াএ কোম্পানি বাডওয়াইজার, লেইস, হার্ড রক ক্যাফে। এর বাইরে মাস্টারকার্ড এবং বিখ্যাত ঘড়ি কোম্পানি জ্যাকব অ্যান্ড কোং এর সাথে চুক্তি আছে এলএমটেনের।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞাপন প্রচারণায় মেসির জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তাঁর স্পন্সর আয়ে।
মেসির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ৫০০ মিলিয়নের কাছাকাছি। একটি স্পন্সরড পোস্ট থেকেই তিনি কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক অনেক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও পোষ্টের রিচের উপর অর্থ প্রদান করে থাকে।
মেসি শুধু বিজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ নন। হোটেল ব্যবসা, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন স্টার্টআপে বিনিয়োগের মাধ্যমেও তাঁর বার্ষিক আয় বাড়ছে।
স্পেন, আর্জেন্টিনা এমনকি আমেরিকাতেও একাধিক বিনোয়োগ আছে মেসির।
যদিও এগুলো সরাসরি স্পন্সর আয়ের মধ্যে ধরা হয় না, তবে তাঁর সামগ্রিক আর্থিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করে।
লিওনেল মেসি আজ শুধুই একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্র্যান্ড।
মাঠে গোল করার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও স্পন্সরশিপ থেকেও তিনি নিয়মিত ‘গোল’ করে চলেছেন। বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা ফুটবল, তার জনপ্রিয় খেলোয়াড়ের মাঠের বাইরেও যে আলাদা ব্রান্ডিং থাকবে তাতে তো নেই সন্দেহ।




