আটলান্টা ইউনাইটেড থেকে ২০২৪ সালে বোটাফিগোতে আসেন থিয়োগা আলমাদা। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই তারকাকে আনতে ২১ মিলিয়ন ইউরো বা ২৩০ কোটি টাকা খরচ করে ব্রাজিলের ক্লাব বোটাফিগো।
সে আসরে বোটাফিগোর হয়ে ২৬ ম্যাচ খেলে ৩ গোল ও ২ এসিস্ট করেন আলমাদা। সেই আসরে ঘরোয়া লীগ সিরিআ ও মহাদেশীয় আসর কোপা লিপার্তোদেস জয় করে বোটাফিগো।
কিন্ত এত আলোর মাঝেও ছিল অন্ধকার। সে মৌসুমে বোটাফিগো ২১ মিলিয়নে আলমাদাকে আনলেও অর্থ পরিশোধ করেনি তার সাবেক ক্লাব আটলান্টাকে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন হতে পারত অর্থের পরিমাণ। শেষ পর্যন্ত সব শর্ত যোগ করে চুক্তির পরিমাণ দ্বারায় ২২.৫ মিলিয়নে।
তবে সে অর্থ শোধ করেনি আটলান্টা। আটলান্টার হয়ে এমএলএসে দাপট দেখান আলমাদা। ৮৩ ম্যাচে করেন ২৬ গোল, সাথে করেছেন ২৪ এসিস্ট।
তার ফ্রিকিক, লং শটে মুগ্ধ ছিল সবাই। নিজেদের সেই সোনার ডিম পারা হাসকে বিক্রি করেও যেন প্রাপ্য অর্থ পায়নি আটলান্টা।
যে কারণে ফিফার দ্বারস্ত হয় আটলান্টা। শর্ত অনুযায়ী জুলাই মাসে আটলান্টাকে ৩ মিলিয়ন এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝে পুরো অর্থ পরিশোধের কথা ছিল।
তবে সে অর্ধ দেয়নি বোটাফিগো। এ নিয়ে পরে ফিফার কাছে আপিল করে বোটাফিগোর আমেরিকান মালিক জন টেক্সটর।
বোটাফিগো ছাড়াও লিয়ন, ক্রিস্টাল প্যালেসের মালিক তিনি৷ তবে তার পক্ষে রায় টেকেনি। বরং শাস্তি পেতে হয় বোটাফিগোকে। যার আওতায় ট্রান্সফারমার্কেটে নিষেধাজ্ঞা পেলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি।
এ রায়ে বেশ বড় ক্ষতি হলো ক্লাবটির। কেননা ট্রান্সফারমার্কেটে বড় আকারে নির্ভর করে তারা। জন,জাইর কুনহা, ইগর জেসুস, হেনরিক সহ তাদের একাধিক ফুটবলার পাড়ি দেয় ইউরোপে।
সেখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ লাভ করে ব্রাজিলের এই ক্লাবটি। আবার তাদের বিকল্পে অনেককে দলে নেয় তারা। সেক্ষেত্রে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা আপাতত এইসব কিছু সম্ভব হচ্ছেনা তাদের। যে ধাক্কা থেকে কীভাবে তারা ঘুরে দাঁড়ায় সেটাই বড় প্রশ্ন।
অপরদিকে বোটাফিগো থেকে আলমাদা আছেন এখন এথলেটিকো মাদ্রিদে, মাঝে খেলেছেন লিওতে।
স্কালোনির অন্যতম প্রিয় শিষ্যতে পরিণত হয়েছেন তিনি। তবে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের এমন ঘটনায় নিজের নাম জড়িত থাকাটাও ভালো আকারে হয়ত নেবেননা তিনিও। এবার দেখা যাক, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে কি করে তিনবার ব্রাজিল লীগ সিরিআ জয়ী দল বোটাফিগো।




