মাঠের বাইরে বড় বড় প্রবাদ, তবে মাঠের ফুটবলে সেটা পরিণত হয়েছে ফাকা আওয়াজে। তারকা ঠাসা আক্রমণভাগ নিয়ে আলাপ হয় অনেক, তবে সেই আক্রমণভাগ দিনের পর দিন হয়ে থাকছে অসাঢ় হয়ে। ফ্রাঞ্চের বিপক্ষে পাওয়া গেলো তার প্রমাণ।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল, ডিফেন্স মিডের চেয়েও যেখানে হতশ্রী আক্রমণভাগ।
ফক্সবার্গের জিলেট স্টেডিয়াম কানায় কানায় পুর্ণ। ব্রাজিল বনাম ফ্রাঞ্চ ম্যাচে কেউ স্বাগতিক নয়, কিন্ত তাতে দর্শকদের আগ্রহের কমতি ছিল না মোটেও। এক হাইভোল্টেজ ম্যাচ দেখার জন্য বসে ছিল তারা। যেখানে শুরুর হাফটা নিজেদের করেই নিয়েছে ফ্রাঞ্চ দল।
একদিকে প্রতিপক্ষ ফ্রাঞ্চ, তার উপর দলের ফ্রন্টলাইনের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড় নেই।
চাপটা বোধহয় শুরু থেকেই নিজেদের কাধে নিয়ে নেয় ব্রাজিল দল। আর যে কারণেই ম্যাচের শুরুর হাফটায় নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের হাতে।
অলিস, ডেম্বেলে, এমবাপ্পেদের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল ব্রাজিল দল।
বিশেষ করে রাইট উইঙ দিয়ে বেশি তৎপর থাকে ফ্রাঞ্চ, যেখানে অলিস ও ডেম্বেলে জুটি ব্রাজিলের ডিফেন্স ভাঙার করেন চেষ্টা। শুরুতে ডিফেন্সে ব্রাজিল কিছুটা সফল হয়, বেশ সলিডও মনে হচ্ছিল তাদের। তবে সেটাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে ফ্রাঞ্চ পায় তাদের আক্রমণের সুফল।
মাঝমাঠে ক্যাসিমিরোকে প্রেস করে বল পায় ফ্রাঞ্চ, সেখান থেকে বল দেওয়া হয় ব্যালন জয়ী ডেম্বেলের দিকে।
ডেম্বেলে থ্রু বাড়ান কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। দারুণ এক রান নিয়ে এমবাপ্পে করেন ঠান্ডা মাথার ফিনিশ। এডারসন এগিয়ে আসেন, তবে এমবাপ্পে কুল ফিনিশ করে যেন জানিয়ে দেন কেন তিনি নতুন জেনারেশনের সেরাদের সেরা হিসেবে পরিচিত।
আক্রমণে প্রথমার্থে পুরোটাই ছন্নছাড়া ছিল ব্রাজিল দল। কালেভদ্রে সুযোগ পায় ব্রাজিল দল, তবে কাউন্টার থেকে আসা সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। উলটো কুনহা, ক্যাসিমিরোরা ডিবক্সের বাইরে থেকে শট করে সুযোগ নষ্ট করেছেন, ড্রিবলিংএ অনেকটা খোলস বন্দী ছিলেন ভিনিসিয়াস। রাফিনহা বা মার্টিনেল্লি সুযোগের করতে পারেননি সৎ ব্যাবহার। ফলে এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় ব্রাজিল দলকে।
দ্বিতীয়ার্থে এসে গোছানো ফুটবল খেলে ব্রাজিল দল। গোলবারমুখী আক্রমণও করে তারা, তবে সেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। উলটো ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বিপদ হানা দেয় তাদের। ফ্রাঞ্চের গতিশীল এট্যাকাররা নেন কাউন্টারের সুযোগ, আর সেখানে লিড ডাবল হুয়ান একিটেকের। এবার মাইকেল অলিসের থ্রু বল, আবারো এগিয়ে আসলেও এডারসন ফেরাতে পারেনি বলটা।
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ব্রাজিলের আশা হয়ে আসা ফ্রাঞ্চের সেন্টার ব্যাকের লাল কার্ড। লাস্ট ম্যান
ফাউলে উপমেকানো লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দল হয় ফ্রাঞ্চ। তবে সেই ফ্রাঞ্চের কাছেও এক গোল হজম করে ব্রাজিল দল।
গোল হজম করে অবশ্য এক গোল শোধ দেয় সেলেসাওরা। ৭৩ মিনিটে আদায় করা ফ্রিকিক থেকে পাওয়া বলে গোল করেন সেন্টার ব্যাক ব্রেমার।
দলে ফেরা ব্রেমারকে এসিস্ট করেন বদলি নামা পাবলো হেনরিক। তবে এরপর হেনরিকের ক্রস থেকে আরো এক গোলের সুযোগ ছিল ব্রেমারের, বিশেষ করে ৯০ মিনিটে তার ভলি তৈরি করেছিল গোলের সুযোগ।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে সহজ সুযোগ পেয়েও বাইরে মারেন ভিনিসিয়াস। তাতে আর ম্যাচে ফেরা হয়না ব্রাজিলের, হেরে করতে হয় ম্যাচ শেষ।
এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে দলকে কিভাবে সামলান কার্লো, এটাই এখন বড় দেখার বিষয়।




