“রঙ যেন মোর মর্মে লাগে
আমার সকল কর্মে লাগে,
যাবার আগে যাও গো আমায় জাগিয়ে দিয়ে
রক্তে তোমার চরণ-দোলা লাগিয়ে দিয়ে”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে গান যেন হৃদয়ে ধারণ করলেন এক ক্ষুদে ভক্ত। বয়সে খুব বেশি নয়, যে বয়সের চেয়েই অধিক তার সামনে থাকা নেইমার জুনিয়ারের বয়স। হয়ত ভক্ত যে বয়সে দেখা শুরু করেছেন খেলা, সেই বয়সে এসে নিজের সেরাটা পিছনে ফেলেছেন নেইমি। কিন্ত তাতে ভক্তের ভালোবাসা কমেনি মোটেও। যে দুই পায়ের ম্যাজিক নেইমার দেখিয়েছেন, সেই দুই পায়ের প্রতি এবার ভক্তি খুদে ভক্তের। এ যেন বহুল আকাঙ্খিত মুহুর্ত ভক্তের জন্য।
ঘটনা ঘটেছে সান্তোসের সর্বশেষ ম্যাচে । যেখানে সান্তোসের হয়ে এথলেটিকো মিনেইরোর বিপক্ষে মাঠে নামেন নেইমার। আর সে ম্যাচের শুরুতে নেইমারের দলের সাথে মাঠে আসেন সেই খুদে ভক্ত। ম্যাচের রীতি অনুসারে ছোট বাচ্চাদের আনার সাথে সাথে আনা হয় তাকে।
তবে সেই ভক্তের নজর কাড়েন একজনই। মাঠে ২২ জন খেলোয়াড় থাকলেও একজনের দিকেই ছুটে যান খুদে সেই ছেলে। গিয়ে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি নিজেকে। বিশেষ করে নেইমারের দুই পায়ের প্রতি মুগ্ধতায় ধরে রাখেননি নিজেকে।
সেখানে প্রথমে চুমো দেন নেইমির বা পায়ে। এরপর অন্য পায়ের প্রতিও দেখান শ্রদ্ধা। ডান পায়েও দেন চুমু। দুই পায়ে চুমা দিয়ে দেখান ভক্তি। যে দুই পা মাতিয়ে ছিল এক যুগের বেশি, যে দুই পায়ে মুগ্ধ সারাবিশ্বব্যাপী, সেই পা খুব কাছে পেয়েই যেন শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়লেন খুদে ভক্ত।
নেইমারও নিরাশ করেননি সেই ভক্তকে। যেখানে কান্নাজড়িত ভক্তকে এবার নিজের বুকে টেনে নেন নেইমার। ম্যাচের আগে জড়িয়ে ধরে যেন পুরণ করেন ভক্তের আশা। এমন কিছু যেন স্বপ্নের মত ছিল ভক্তের কাছে। যে কারণে নিজের কান্নাও ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
একটা প্রজন্মের কাছে নেইমার সাধারণ এক নাম বা খেলোয়াড় নয়। এক প্রজন্মের কাছে নেইমার আলাদা এক স্বত্তা, বেচে থাকার সম্বল। যে নেইমারের ম্যাজিকের উৎস দেখতে যেন ভক্তদের থাকে দিনের পর দিন আগ্রহ। আর সেই আগ্রহেই নিজেকে ধরে রাখতে পারলেননা ভক্ত। এ যেন কোটি ভক্তের আবেগের বহিপ্রকাশই দেখা গেলো খুদে ভক্তের আচরণে, নেইমারকে তো এভাবেই ভালোবাসে সারা বিশ্বে কোটি ফুটবল ফ্যানরা।




