ভক্তদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখলেন, জানালেন তার সবচেয়ে বড় পাওনা এই ভক্তরা। গ্যালারিতে ইউনাইটেড ভক্তরা ছিলেন, সাথে ব্রাজিলের পতাকা হাতেও দেখা গেছে ভক্তদের।
ভক্তরা শেষ বিদায় জানান ক্যাসিমিরোকে। যে ক্যাসিমিরো ৪ বছর আগে যোগ দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডেরায়।
দুইবার দলকে চ্যাম্পিয়নস লীগে নিয়ে গেছেন, ড়িফেন্সিভ মিডে গোল, এসিস্ট, পাসিংএ দেখান ঝলক। সেই ক্যাসে নিচ্ছেন এবার বিদায়৷ এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ মাতানো এই ব্রাজিলিয়ান এবার যে ছাড়তে যাচ্ছেন ইউরোপও।
তবে এই তালিকায় ক্যাসিমিরো একা নন। আছেন ফ্রাঞ্চের আতোয়া গ্রিজমান ও রবার্তো লেওয়ান্ডোয়েস্কি। স্প্যানিশ লীগের এই দুই তারকার এবার বেজেছে বিদায় ঘন্টা।
বায়ার্ন মিউনিখে গোলের বন্যা বইয়ে বার্সেলোনায় আসেন লেওয়ান্ডোয়েস্কি। এরপর বার্সার হয়ে জয় করেন জোড়া লা লীগা সহ একাধিক শিরোপা। অপরদিকে স্প্যানিশ লীগের ৩ ক্লাবেই ক্যারিয়ার কাটিয়ে দিলেন গ্রিজম্যান।
ফ্রাঞ্চের এই তারকার শুরুটা রিয়াল সোসিয়াদাদ থেকে। এরপর বার্সেলোনা ও এথলেটিকো মাদ্রিদে কাটিয়েছেন এক যুগের বেশি সময়। ১৮ মৌসুম সিনিয়ার দলে কাটিয়ে ৩৫ এ এসে এবার বাজছে গ্রিজম্যানের বিদায়ের ঘন্টা।
ব্রাজিলের মিডফিল্ড জেনারেল ক্যাসিমিরো দীর্ঘদিন রাজত্ব করেছেন ইউরোপের মাঝমাঠে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, ৩টি লা লিগা এবং অসংখ্য ট্রফি।
তবে বয়স ৩৪ ছুঁতেই এবার ইউরোপ অধ্যায়ের ইতি টানার গুঞ্জন জোরালো। শেষ ম্যাচে ভক্তদের উদ্দেশ্যে তার আবেগঘন বক্তব্য আর গ্যালারিতে ব্রাজিলের পতাকা যেন বুঝিয়ে দিল, এক যুগেরও বেশি সময়ের দাপুটে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় শুরু হয়ে গেছে।
অপরদিকে ইউরোপে প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে গ্রিজম্যান খেলেছেন ৭০০-এর বেশি ম্যাচ, করেছেন ২৫০-এর বেশি গোল এবং অসংখ্য অ্যাসিস্ট। ফ্রান্সের হয়ে জিতেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপও। তার খেলার স্টাইল, নিখুঁত পাসিং আর বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন ৩৫ বছর বয়সে এসে ইউরোপ ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই তারকার সামনে।
লেওয়ান্ডোয়েস্কিও কম সফল নন। বায়ার্নের হয়ে ৩৭৫ ম্যাচে ৩৪০-এর বেশি গোল করে হয়েছেন ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।
পরে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে বয়স বাড়লেও কমেনি ধার। বার্সার হয়ে জিতেছেন দুটি লা লিগা শিরোপাও। পুরো ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা এখন ৭০০-এর কাছাকাছি। ইউরোপের ডিফেন্ডারদের আতঙ্ক হয়ে থাকা এই পোলিশ স্ট্রাইকারও এখন ক্যারিয়ারের শেষ বাঁকে।
ক্যাসিমিরোর লড়াই, গ্রিজম্যানের শিল্প আর লেওয়ানডোয়েস্কির গোল — এই তিন নাম শুধু ফুটবলার নয়, ইউরোপীয় ফুটবলের এক একটি যুগের প্রতীক।
সময়ের নিয়মে তারা হয়তো ইউরোপ ছাড়বেন, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে তাদের নাম লেখা থাকবে সোনালি অক্ষরে। কোটি ভক্তের হৃদয়ে তারা থেকে যাবেন কিংবদন্তি




