উইকেট কিপিংএ থেকে কখনও বলেন দেশে রিজওয়ানের ভাবমুর্তি সংকটে। আবার রিজওয়ানের সাথে লিপ্ত হন তর্কেও।
মাঠের মধ্যে এমন ঘটনায় লিটনকে নিয়ে তৈরি হয় আলোচনা সমালোচনা। তবে লিটন দাস আসল ক্ষতি পাকিস্তানকে করে দিয়েছেন ব্যাট হাতেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ব্যাবধান গড়ে দেওয়া ক্রিকেটার লিটন দাস। লিটনের যেই রানের পাহাড়টাই টপকাতে হিমশিম খেয়ে হোয়াইটওয়াশ হওয়া দলের নাম পাকিস্তান।
টেষ্ট ক্রিকেটে লিটন ব্যাটিংএ আসেন ৬ নাম্বারে। দেশের ক্রিকেটে অন্যতম ক্লাসিক ও প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান লিটন।
অথচ সেই লিটন খেলেন লোয়ার মিডল অর্ডারে। অধিকাংশ দিনই লিটনকে ব্যাট করতে হয় টেল এন্ডারদের সাথে। লিটনের সেটা নিয়ে অভিযোগ নেই। বরং টেল এন্ডারদের আগলে রেখে যেভাবে ফ্রি ফ্লোয়িং ব্যাটিং করেন তিনি, সেটাই যেন অনুপ্রেরণা হয় অনেকের জন্য।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিটন যখন নামেন, তখন ধুকছে বাংলাদেশ দল। সেখানেই টেল এন্ডারদের সাথে ব্যাটিং করে তুলে নিলেন নিজের ৬ষ্ঠ টেষ্ট শতক।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে যখন নামেন ব্যাট হাতে, শান্তকে হারিয়ে তখন আশঙ্কা বাংলাদেশের ব্যাটিংএ। মুশফিকুরকে নিয়ে সেই ধাক্কাও সামাল দেন লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে শতক হাকানো লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৬৯ রান। কার্যত সেখানেই ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের খেতাবটা নিজের করে নেন লিটন।
ব্যাট হাতে এতটাই শৈলি দেখান লিটন, তাতে আলাপের বাইরে থাকে তার উইকেট কিপিং দক্ষতা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে মোট ৪ ক্যাচ তুলে নেন লিটন। পেস থেকে স্পিন বাংলাদেশের বোলিং এর ভারসাম্য এসেছে অনেকে। তবে লিটন ভুল করেননি। ধৈর্য্য ধরে ব্যাটসম্যানের ভুলের জন্য অপেক্ষা করেছেন। আর সুযোগ পেলে সেটা কাজে লাগিয়েছেন শতভাগ।
লিটন দাস টি২০ ফরম্যাটের অধিনায়ক । সেটা টেষ্ট ক্রিকেটেও আসে দলের কাজে। লিটন জানেন দলের সিনিয়ারদের একজন তিনি। যে কারণে দায়িত্ববোধ থেকেই পরামর্শ দেন সবাইকে, আবার মাঠের পিছন থেকে উৎসাহিতও করেন।
এই মুহুর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিপক্ব এক নাম লিটন দাস। ক্যারিয়ারের লম্বা সময় পরেও লিটনকে নিয়ে আক্ষেপ আছে অনেকের।
তবে লিটন যে আগের চেয়ে পরিণত একজন, সেটা স্বীকার করবেন অনেক ক্রিকেট ভক্তই। আগামী দিনে লিটনদের হাত ধরে এগিয়ে যাক বাংলাদেশের ক্রিকেট, এটা চাওয়া দেশের ক্রিকেট ভক্তদের।




