ডিয়োগা সিমিওনে নামটা শুনলে আপনার মাথায় একজন কোচের ছবিই আসবে। চিন্তাটা অমুলক নয়, নিজের ক্যারিয়ারে মোট ৫ ক্লাবের দায়িত্ব সামলেছেন সিমিওনে।
তবে এর মাঝে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আছেন এথলেটিকো মাদ্রিদের দায়িত্বে। ২০১১ সালে এই ক্লাবে যোগ দেন সিমিওনে, এরপর থেকে দেড় দশক ধরে ক্লাবের ম্যানেজার তিনি। যে কারণে সিমিওনে নামটাই যেন হয়ে আছে এথলেটিকো মাদ্রিদের কোচের প্রতীক হিসেবে।
তবে কোচ সিমিওনের ছিল দীর্ঘ খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার। এথলেটিকো মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, লাজিও, সেভিয়ার মত ক্লাবে খেলেছেন ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়।
দীর্ঘ ১৯ বছর ছিলেন ফুটবলে, খেলেছেন ৬০০ এর অধিক ম্যাচ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেরও ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আর্জেন্টিনার হয়ে ৩ বিশ্বকাপ খেলেন সিমিওনে, এর মাঝে ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপে তার অধীনে খেলেন আর্জেন্টাইন সেন্টার ব্যাক পাবলো পাজ। সুদর্শন এই সেন্টার ব্যাক তখন স্প্যানিশ ক্লাব তেনেরফের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছিলেন স্প্যানিশ লীগে। সেখানেই বিশ্বকাপে ডাক আসে তার, বিশ্বকাপের ম্যাচ সহ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেন ১৪ ম্যাচ।
২৮ বছর পর আবারো বিশ্বকাপ, আবারো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে পাজ ও সিমিওনে। নাহ ডিয়োগা সিমিওনে বা পাবলো পাজ এবার খেলছেন না, খেলছেন তাদের উত্তরসুরী।
২৮ বছর আগে বাবারা একইসাথে খেলেছেন বিশ্বকাপ, এবার তাদের সন্তানরা একই মঞ্চে নামতে যাচ্ছে ২০২৬ সালে।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন ডিয়োগা সিমিওনে পুত্র জিওভানি সিমিওনে। একইসাথে দলে আছেন পাবলো পাজের ছেলে নিকো পাজ।
বাবার সাথে অবশ্য সিমিওনের মিল আছে কিছুটা। বাবা ছিলেন মিডফিল্ডার, সিমিওনেও এই পজিশনে খেলে থাকে। যদিও বাবা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডেই ছিলেন বেশিরভাগ সময়, সিমিওনে খেলেন উইঙ্গার বা এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে।
তবে পাজ পুত্রের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। পাবলো পাজ ছিলেন রক্ষণের দুর্গ। কিন্ত পুত্র নিকো পাজের খ্যাতি মিডফিল্ডার বা এট্যাকার হিসেবেই।
যদিও বাবা পাজের মত লম্বা চুল আর সুদর্শন চেহারা পেয়েছেন নিকো। এবার একইসাথে বাবার মত পেলেন বিশ্বকাপ খেলার টিকিট।
অবশ্য বাবাদের আক্ষেপ এবার পুরণ করতে চাইবেন এই দুই আর্জেন্টাইন। একসাথে বিশ্বকাপ খেললেও বিশ্বকাপ জয় করা হয়নি ডিয়োগা ও পাবলোর। তবে জিওভানি ও নিকোর হাত ধরে সেই স্বপ্ন পুরণ হোক, এমনটাই আশা থাকবে আর্জেন্টাইন ভক্তদের।




