“মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সুর্য্য হাসে”। এই প্রবাদের মত যেন কার্লো দেখালেন, মাঠের সুর্য্য তিনি চাইলেই উদিত করতে পারেন।
এদিন ব্রাজিল দলের মাঠে দেখা গিয়েছে ভিন্ন দুই চিত্র। প্রথমার্থে মনে হচ্ছিল পানামার বদলে খেলছে বিশ্বের সেরা দলগুলোর কেউ।
অথচ দ্বিতীয় হাফে একই দলকেই কোন সুযোগ দেননি কার্লো, দিয়েছেন ভেঙেচুড়ে। যেখানে লুকিয়ে আছে কার্লোর ট্যাকনিকাল দক্ষতা।
একাদশ কার্লো আনচেলত্তি সাজিয়েছেন ৪-২-৩-১ ফরমেশনে। ক্যাসিমিরো ও গিমারেজ ছিলেন দুই মিডফিল্ডার, উইঙে ভিনিসিয়াস ও লুইজ হেনরিক।
এটাকিং মিডে রাফিনহা, আর স্ট্রাইকার হিসেবে কুনহা। প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ডানদিকের ওভারলোড করা ও ভিনির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করা। একইসাথে ব্রুনো গিমারেজের মাধ্যমে ডিফেন্স ও এট্যাকের সংযোগ করা, কুনহার নিচে নেমে বল যোগানে সহায়তা করা।

পরিকল্পনায় অনেককিছুই বিফলে যেতে পারত, কেননা নিজের রোলটা ঠিকঠাক পালন করতে পারেননি লুইজ হেনরিক ও ব্রুনো গিমারেজ।
তবে সেই কাজটা পুষিয়ে গেছেন ভিনিসিয়াস ও ক্যাসিমিরোর দুর্দান্ত পারফর্মেঞ্চে। টিম কম্বিনেশনের অভাব ছিল শুরুর হাফে বটে, তবে এর মাঝেও একজনের ঘাটতি আরেকজন পুরণ করে দিয়েছেন ভালোভাবে।
দ্বিতীয় হাফে কার্লো দেখান তার ক্লাসিকাল ট্যাক্টিক্স। ২ জন নয়, এবার ৩ জন মিডফিল্ডারকে সুযোগ দেন কার্লো আনচেলত্তি।
এংকরম্যানে রাখেন ফ্যাবিনহোকে, যেটা আলাদা সুযোগ করে দেয় লুকাস পাকুয়েতার জন্য। ব্রুনো যেটা করতে পারেননি, সেটাই পাকুয়েতা করেন দুর্দান্তভাবে। একইসাথে দিতে থাকেন একের পর এক দুর্দান্ত বল।
অপরদিকে ক্যাসের জায়গায় দানিলো সান্তোস শতভাগ মেলে ধরেন নিজেকে। বক্স টু বক্স অপারেট করতে থাকেন তিনি, ডিফেন্স থেকে এট্যাকে আনেন ফ্লুডিটি। ফলে আক্রমণের ধারা বাড়ে, ব্রাজিলের বাড়ে গতি।
এর সাথে ইগর, এন্ড্রিকদের গতি ও ফিজিক্যালিটি পানামার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রায়ানের ঠান্ডা মাথার খেলা যেন উইঙে পানামাকে রাখে চাপে।
ফলে প্রথমার্থে মাত্র ৪ বার অন টার্গেটে শট নেওয়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্থে নিয়েছে মোট ১২ অন টার্গেট শট। ৪৮ ভাগ থেকে বল দখল এসেছে ৫৫ ভাগে, পাস বেড়েছে দ্বিগুণের থেকেও বেশি। ৪ বিগ চাঞ্চ মিস না হলে এদিন গোলের সংখ্যা দুই অঙ্কে আসলেও থাকত না অবাক হবার কিছু।
কার্লো জানেন ব্রাজিল দলের অস্ত্র। সেই অস্ত্র ব্যাবহার করেই বের করছেন ফলাফল। অন্তত যে ধরণের ফুটবল কার্লো দ্বিতীয়ার্থে খেলিয়েছেন, সেটার পুর্ণাঙ্গ ব্যাবহার করা গেলে ব্রাজিলকে হারানো অনেক দলের জন্যই হয়ে যাবে কঠিন।




