পুরো নাম জোশিমার জোসে এভোরা দিয়াজ। তবে ফুটবল অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন যে নামে, সেটা ভোজিনহা। বাবা হয়ত ভালোবাসতেন ব্রাজিলের ফুটবলকে। সাবেক ব্রাজিলিয়ান রাইট ব্যাক জশিমারের নামে নামকরণ করা হয় তাকে। ১৯৮৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জশিমার নজর কাড়েন বিশ্বব্যাপী। ২ বছর পর ১৯৮৬ সালে জন্ম নেন জশিমার। বিশ্বব্যাপী তিনি পরিচিতি হন তার ৪০ বছর পর।
জন্মের পর ফুটবলের প্রতি প্রেম ছিল জশিমারের। শুরুতে খেলতেন লোকাল ক্লাব বাতুকে। সেখান থেকে ২০১১ সালে চলে যান আরেক স্বদেশী ক্লাব মিন্দেলেনেসে। সেখানেই প্রথম প্রফেশনাল কন্ট্রাক্ট পান জাশিমার।
এর এক বছর পর ২০১২ সালে এঙ্গোলার ক্লাবে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে আবারো ফিরে আসেন সাবেক ক্লাব মিন্দেলেনেসে। এভাবেই চলছিল তার ক্যারিয়ার।
তবে আয়তনে কেপে ভার্দে বেশ ছোট এক দেশ। কয়েকটি আইল্যান্ড নিয়েই গঠিত দেশটি। জাশিমারের ক্লাব ক্যারিয়ারটাও পাচ্ছিল না উন্নতির দিক। এমন অবস্থায় ফুটবল খেলে বেচে থাকা ছিল কষ্টের। সে অবস্থায় প্রথমে ফুটবল ছেড়ে ব্যাংকের চাকরি নেন জাশিমার। ভেবেছিলেন সেখানেই হবেন স্থায়ী।
তবে ফুটবলের টানে আবারো ফিরে আসেন এই গোলরক্ষক। ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার নেন ঝুকি। যেই ঝুকি অবশ্য কাজে দেয় তার। দেড়িতে হলেও বিশ্ব ফুটবলের এক পরিচিত মুখ ভোজিনহা।
২০১৬ সালে তার ক্যারিয়ারে নেয় নতুন মোড়। পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্লাব গিল ভেসেন্তে দলে ভেড়ে তাকে। যদিও এরপর পর্তুগালে বেশিদিন খেলা হয়নি। সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া সহ খেলেছেন নানান দেশের লীগে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে ফিরেছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগ দল চিভাসের হয়ে। যেখানেই খেলে যাচ্ছেন বর্তমানে।
২০১২ সালে হয় জাতীয় দলে অভিষেক। এরপরই দলকে আফ্রিকান ন্যাশনস কাপে নিয়ে গড়েন ইতিহাস। আফ্রিকান অঞ্চলের স্পটলাইট কাড়েন অনেক আগেই। কিন্ত তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝে বিশ্বকাপে আসা হচ্ছিল না কেপে ভার্দের। এবার নিজেদের গ্রুপে শক্তিশালী ক্যামেরুনকে পিছনে ফেলে বিশ্বকাপে আসে কেপে ভার্দে। আর সেখানেই ইতিহাস গড়েন ভোজিনহা।
র্যাংকিং ২ থাকা স্পেনকে রুখে দেয় ভোজিনহার কেপে ভার্দে, করতে দেয়নি কোন গোল। সেখানে ম্যাচে ৭ সেভ ভোজিনহার, ৩ ডাইভিং সেভ। ৬ বার সেভ করেছেন বক্সের ভিতরের শট। ফেরান, অরিজাবাল, ইয়ামাল কেউই টিকেনি তার সামনে। আর এভাবেই চলে আসেন তিনি ইতিহাসের পাতায়।
বাবা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেড়িতে হলেও সেটা পুরণ করেছেন ভোজিনহা। সেই স্বপ্নের পথে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। সেগুলো যে ভুল ছিলনা, সেটারই প্রমাণ পাওয়া গেছে সর্বশেষে এসে।




