দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্র।
ভুটানের থিম্পুতে হওয়া এই ড্রয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে ছয় দলের টুর্নামেন্টের গ্রুপ বিন্যাস।
স্বাগতিক বাংলাদেশ এবার খেলবে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে বর্তমান শক্তিশালী দল ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ।
ড্রয়ের পর থেকেই দুই গ্রুপের শক্তিমত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের সব ম্যাচ।
দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে এই প্রতিযোগিতা। ঘরের মাঠের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
প্রতিযোগিতার বর্তমান সূচি অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে।
গ্রুপ পর্ব শেষে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। এরপর ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপের, আর ‘বি’ গ্রুপের সেরা দল খেলবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপের বিপক্ষে। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ীরা লড়বে শিরোপার জন্য।
এদিকে নেপালের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে দলটি আপাতত টুর্নামেন্টের বাইরে রয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে নেপালকে ‘এ’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ সর্বশেষ এবং একমাত্র সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০৩ সালে। এরপর কেটে গেছে ২৩ বছর, কিন্তু আর শিরোপা জেতা হয়নি। এবার নিজেদের মাঠে খেলতে নামায় স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা অনেক বেশি। তুলনামূলকভাবে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ কাগজে-কলমে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত, পাকিস্তান বা মালদ্বীপের মতো দল অপেক্ষা করতে পারে।
তাই ঘরের মাঠ, দর্শকদের সমর্থন এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স-সবকিছু মিলিয়ে এবার বাংলাদেশের সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাফের শিরোপা আবারও ঘরে তুলতে পারে কি না বাংলাদেশ।




