বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে প্রবাসী ফুটবলারদের আগমন এখন আর নতুন কোনো ঘটনা নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ফুটবলে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনতে বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ স্ট্রাইকার এডাম আব্বাস।
ইংল্যান্ড থেকে খুব শিগগিরই বাংলাদেশে এসে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এই মাসেই বাংলাদেশের ক্যাম্পে দেখা যাবে আব্বাসকে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগও পেয়ে যাবেন এই ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলের আক্রমণভাগে দীর্ঘদিন ধরেই একজন কার্যকর গোলদাতার অভাব অনুভূত হচ্ছে। সেই সংকট কাটানোর লক্ষ্যেই এবার জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফুটবলার এডাম আব্বাস।
আগামী ৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অনুর্দ্ধ ২০ দলের ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন এডাম আব্বাস।
ইংলিশ ফুটবলে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বেশ কৌতূহল।
এখন প্রশ্ন একটাই, জাতীয় দলে এসে কি নিজেকে স্থায়ী করতে পারবেন তিনি?
মাত্র ১৯ বছর বয়সী এডাম আব্বাসের উচ্চতা ১.৮০ মিটার। ডান পায়ের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মূলত রাইট উইঙ্গার হলেও প্রয়োজন হলে সেন্টার ফরোয়ার্ড ও লেফট উইংয়েও খেলতে পারেন।
অর্থাৎ, আক্রমণভাগে একাধিক পজিশনে খেলার সামর্থ্যই তাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
এডামের ফুটবল বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা দুই একাডেমিতে।
শৈশবে তিনি খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে, পরে যোগ দেন বার্নলির বয়সভিত্তিক দলে।
ইংলিশ একাডেমির এই অভিজ্ঞতা তাকে ছোটবেলা থেকেই দ্রুতগতির, শারীরিক লড়াইনির্ভর ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
পরিসংখ্যানও বলছে, সিনিয়র পর্যায়ে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন এই তরুণ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি গ্র্যান্ড-স্যাকোনেক্সের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
এই সময়ে করেছেন ২টি গোল, মাঠে ছিলেন মোট ৬১৬ মিনিট। এর মধ্যে লিগে ১০ ম্যাচে ১ গোল এবং সুইস কাপে ৩ ম্যাচে ১ গোল করেন তিনি।
যদিও সংখ্যাগুলো খুব বড় নয়, তবে এডামের বয়স বিবেচনায় এগুলোকে সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
কারণ, ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য বড় সম্পদ।
পাশাপাশি উইঙ্গার ও স্ট্রাইকার,দুই ভূমিকাতেই খেলতে পারার কারণে কোচের কৌশলেও বাড়তি নমনীয়তা যোগ করতে পারেন তিনি।
সব মিলিয়ে আব্বাসকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশের ভক্তরা। ইংল্যান্ডে বড় হওয়া ও ফিজিক্যালি স্ট্রং একজন ভার্সেটাইল খেলোয়াড়ের খোজই যেন করছিল বাংলাদেশ দল।
আর সেখানে এডাম নিজেকে প্রমাণ করে স্থায়ী হোক, এটাই চাওয়া সবার।




